প্রশাসনের আশ্বাসে ‘ভরসা পাচ্ছেন না’ ভোটাররা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ১২:০৮ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রশাসন সুষ্ঠুতার আশ্বাস দিলেও সাধারণ ভোটারের মনে শঙ্কা কাটছে না। ভোটাধিকার প্রয়োগে নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নিজ এলাকা কোম্পানীগঞ্জের আট ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী এবং দলের মধ্যে বিরোধ বিরাজমান থাকায় জনমনে এ আতঙ্ক কাজ করছে।

বিগত এক বছর যাবত চলমান দলীয় বিরোধের জের ধরে এখানে বেশ কয়েকটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক সাংবাদিক ও এক পরিবহন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। নির্বাচনের শুরু থেকেই এ পর্যন্ত সবকটি ইউনিয়নে পক্ষ-বিপক্ষ প্রার্থীদের প্রচারণা নিয়ে বেশ কয়েকটি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতেও চরকাঁকড়া ইউনিয়নে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিনে-দুপুরে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জার উপজেলার একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধি আনছার উল্যাহকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় রামপুর ইউনিয়নে ঝাড়ু মিছিল হয়েছে। এ সময় দু‘পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে গিয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিসহ সাত পুলিশ সদস্য আহতের ঘটনা ঘটে। এনিয়ে পুলিশ বাদী হয়ে ‘পুলিশ অ্যাসল্ট’ মামলা করেছে।

এছাড়াও সিরাজপুর ইউনিয়নে মেয়র সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম উদ্দীন মিকনের লোকজন চশমা প্রতীকের প্রার্থী আবুল হাশেমের কর্মী শাহেদের (২০) উপর একাধিকবার হামলা চালায়। তার বাড়িতে হুমকির কারণে তিনি এখন বাড়িছাড়া। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) মুছাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীন চৌধুরীর এক নির্বাচনী কর্মী ও ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহেদা বেগমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনা ঘটেছে। একই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী আইয়ুব আলীও অভিযোগ করেছেন, তার নারী কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে।

অন্যদিকে শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে চরফকিরা ইউনিয়নে এক মেম্বার প্রার্থীর সমাবেশে যেতে কাদের মির্জাকে পথ আটকে বাধা দিয়েছেন ভাগনে ও ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জায়দল হক কচি। পরে প্রশাসনের সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাসে পুলিশ পাহারায় কাদের মির্জা ওই সমাবেশে যান।

বিভিন্ন ইউনিয়নে নানা ধরনের হুমকির কারণে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের কর্মীরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। এ সকল ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মন থেকে কোনোভাবেই ভয়ভীতি দূর করা যাচ্ছে না। অবশ্য প্রশাসন এক্ষেত্রে ভোটারদের ভয়ভীতি দূর করার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, আট ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজারে পুলিশি পথসভা করে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে বলা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি চেকপোস্টে দায়িত্বরত এবং ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল পুলিশ অফিসারদের স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি মোবাইল টিমের কাছে বডি অন ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। যেকোনো স্থান থেকে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই স্পেশাল ডিউটিতে থাকা পুলিশ টিম তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এদিকে পুলিশি তৎপরতায় ইতোমধ্যে গুলিসহ দুটি বেআইনি অস্ত্র, চরপার্বতী ইউপি থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার এবং তিনজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের এসব অভিযানের ফলে অনেক সন্ত্রাসী এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে। বহিরাগতদের কোম্পানীগঞ্জে প্রবেশে কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সপ্তম ধাপে কোম্পানীগঞ্জের আট ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দু’পক্ষের কোন্দলের কারণে কোনো পক্ষকেই নৌকা প্রতীক দেয়নি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

ইকবাল হোসেন মজনু/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।