টাকার বিনিময়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে পরাজিত করার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৭:১৩ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২
ফাইল ছবি

ষষ্ঠ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দিনাজপুর সদর উপজেলার দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কাছে টাকা নিয়ে হারিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পরাজিত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী।

অভিযুক্তরা হলেন-৯ নম্বর আস্করপুর ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা আতাউল হক ও জায়েদ ইবনে ফজল।

বুধ ও বৃহস্পতিবার (৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুর জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ওই দুই প্রার্থী।

অভিযোগকারীরা হলেন-৯ নম্বর আস্করপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোশারফ হোসেন এবং ৪ নম্বর শেখপুরা ইউনিয়নের আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ আলী তালুকদার ডাবলু।

এ নিয়ে গত চারদিনে দুজন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও পাঁচজন মেম্বার প্রার্থী লিখিত অভিযোগ করলেন।

বৃহস্পতিবার দিনাজপুর জেলা সিনিয়র নির্বাচন কমকর্তার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ৪ নম্বর শেখপুরা ইউনিয়নের আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ আলী তালুকদার ডাবলু।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩১ ডিসেম্বর তার অবস্থা এতটাই ভালো ছিল যে তার পরাজিত হওয়ার কোনো আশঙ্কা ছিল না। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাঠে তেমন সক্রিয় ছিলেন না। সদর উপজেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং কিছু প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোমিমুল ইসলামের কাছে লাখ লাখ টাকা নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তারা জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বৈলতৈড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাটিনা আলিম মাদরাসা, দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মাতাসাগর ভাটপাড়া কেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কৌশলে কারচুপি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সে সময় ভোটের রেজাল্ট শিট দিতে অস্বীকৃতি জানান তারা। বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের সুযোগ-সুবিধামতো এক থেকে দেড়ঘণ্টা ভোট বন্ধ রাখা হয়। ভোটের পর কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনের ফলাফল না দিয়েই প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং পোলিং এজেন্টদের দ্রুত স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। এ ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান আরিফ আলী।

৪ নম্বর শেখপুরা ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জায়েদ ইবনে ফজল। অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, এসব প্রার্থী কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। এসব পরাজিত প্রার্থীদের নির্বাচন পরবর্তী অপকৌশল।

বুধবার একই অভিযোগ করেন ৯ নম্বর আস্করপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের কাছে টাকা নিয়ে ইভিএমের মাধ্যমে কারচুপি করে রিটার্নিং কর্মকর্তা আতাউল হক বিএনপির আবু বক্কর সিদ্দিককে জিতিয়ে দিয়েছেন।

৯ নম্বর আস্করপুর ইউনিয়নে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউল হক। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে পাঁচজন মেম্বার ও একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী লিখিত অভিযোগ করলেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম প্রামাণিক বলেন, প্রত্যেক নির্বাচনের পর এমন অভিযোগ পড়ে। তবে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। তবে টাকার বিষয়টি যদি থাকে তাহলে টাকা প্রদানকারী ও গ্রহণকারী উভয়ই দোষী। অর্থ লেনদেনের বিষয়টি প্রমাণিত হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমদাদুল হক মিলন/এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।