সেই তামান্নার পাশে দুই এমপি
সব বাধা পেরিয়ে এক পায়ে চমক দেখানো সেই তামান্না আক্তার নূরার পাশে এবার যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার।
বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে যশোর পৌর শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তামান্নার ভাড়াবাসায় অভিনন্দন জানাতে ছুটে যান দুই সংসদ সদস্য। পা দিয়ে লিখে টানা চতুর্থবার জিপিএ-৫ পাওয়ায় তামান্নাকে দুজনই মিষ্টিমুখ করান। একই সঙ্গে তামান্নার উচ্চশিক্ষা ও পরবর্তী স্বপ্ন পূরণে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতিতে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে তামান্নার বাড়িতে যান যশোর-২ আসনের সংসদ মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন। সেখানে তামান্নাকে মিষ্টিমুখ করানোর সঙ্গে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এই সংসদ সদস্য।
এ সময় তিনি তামান্নার উদ্দেশ্যে বলেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে সব প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে পিইসি, জেএসসি, এসএসসির মতো এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পাওয়া একটি অনন্য অর্জন। এ সফলতা দেশের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে। তামান্নার উচ্চশিক্ষা ও পরবর্তী স্বপ্ন পূরণে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী পরিবার সবসময় পাশে থাকবে।
ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে ঝিকরগাছার সংসদ সদস্যের নির্দেশনা ও উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে তামান্নার বাড়ির পাশের রাস্তা সলিং করা হয়েছে। ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে এমপি নাসির তামান্নাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদ থেকে বিভিন্ন সহায়তা তাকে দেওয়া হচ্ছে। আগামীতেও ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসন তামান্নার স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চৌধুরী রমজান শরীফ বাদশা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম রেজা, জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আজাহার হোসেন স্বপন, যুবলীগ নেতা মিঠু বিশ্বাস, ছাত্রলীগ নেতা মিঠুন চক্রবর্তী প্রমুখ।
এদিকে বিকেলে তামান্নাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জগলুর হায়দার। তামান্নাকে তিনি ফুলের শুভেচ্ছা ও মিষ্টি মুখ করান। এ সময় তামান্নাকে নগদ ৫০ হাজার আর্থিক সহায়তা দেন।
এ সংসদ সদস্য বলেন, তামান্না নূরা আমাদের সমাজের অনুকরণীয়। একই সঙ্গে অনুপ্রেরণার অনন্য উদাহরণ। তামান্নার স্বপ্ন পূরণে পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নানা ব্যক্তিবর্গ। তার স্বপ্ন পূরণে আমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার পাশে থাকবো।
এ সময় তামান্না বলেন, আপনাদের এই উপস্থিতি আমাকে অনেক সাহস যোগাচ্ছে। আমি আমার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে আপনাদের মতো মানুষকে পাশে পাবো কখনো চিন্তাও করেনি। খুশিতে আমার বুকটা ভরে যাচ্ছে। আমি যেন আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।
তামান্নার বাবা রওশন আলী বলেন, সবাই তামান্নার খোঁজ নিচ্ছে এটাই আমাদের কাছে বড় পাওয়া। মেয়েটা ছোট্ট থেকে অনেক কষ্ট করেছে। ও সমাজের জন্য কিছু করতে চায়। কারও বোঝা হতে চায় না।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া আলীপুরের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে বড় তামান্না নূরা। তামান্না যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। রোববার প্রকাশিত ফলাফলে এসএসসির মতো এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোন করে তামান্নাকে অভিনন্দন জানিয়ে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে আবেদন করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। ওইদিন শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানাও ফোন করে তামান্নাকে অভিনন্দন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে তামান্নাকে শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তামান্নাকে অভিনন্দনপত্র পাঠিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ।
মিলন রহমান/এসজে/এমএস