নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের দুই এনআইডি, পরাজিত প্রার্থীর মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৬:১৭ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
দুই জায়গার ভোটার তালিকার ও ইনসেটে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. তাজ উদ্দিন হোসেন শাহ

দুই জায়গার দুটি জাতীয়পরিচয়পত্র থাকায় নির্বাচন করায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. তাজ উদ্দিন হোসেন শাহের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন পরাজিত প্রার্থী মীর্জা লিয়াকত আলী বেগ।

বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলাটি করা হয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেককে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদনে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

অভিযুক্ত নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান মো. তাজ উদ্দিন হোসেন শাহ আলোকডিহি ইউনিয়নের আলোকডিহি গ্রামের মো. তোছাদ্দেক হোসেনের ছেলে। তিনি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

মামলার বাদী মীর্জা লিয়াকত আলী বেগ চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের গছাহার গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদ বেগের ছেলে। তিনি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. তাজ উদ্দিন হোসেন শাহ চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আলোকডিহি গ্রামের বাসিন্দা। গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দুটি জাতীয়পরিচয়পত্র নিবন্ধন গ্রহণ করেন।

যার মধ্যে একটিতে তার নাম মো. তাজ উদ্দিন হোসেন শাহ, জন্ম তারিখ-১৯৭৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর, বাবার নাম- মো. তোছাদ্দেক হোসেন, মায়ের নাম-ছকিনা বেগম, ভোটার এলাকা আলোকডিহি (৭নং ওয়ার্ড অংশ) ভোটার নম্বর- ২৭১৩৯৯০০০০৩৫, শিক্ষাগত যোগ্যতা- উচ্চ মাধ্যমিক, ওয়ার্ড নং-৭, মহল্লা- আলোকডিহি।

আরেকটিতে জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম মো. তাজ উদ্দীন হোসেন শাহ, জন্ম তারিখ-১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি, বাবা- মো. তোছাদ্দেক হোসেন, মায়ের নাম- ছকিনা বেগম, ভোটার এলাকা- আলোকডিহি (৭নং ওয়ার্ড অংশ), ভোটার নম্বর- ২৭১৩৯৯২৮৩৪০১, শিক্ষাগত যোগ্যতা- কারিগরি শিক্ষা, মহল্লা- দক্ষিণ আলোকডিহি, ওয়ার্ড নং- ৭ উল্লেখ করা হয়।

দুটি পরিচয়পত্রে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের ছবি রয়েছে। আলোকডিহি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় ৩৫৫নং ও ৩৭৭নং ক্রমিকে তার নাম রয়েছে। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিকৃত তথ্য প্রদান করে পৃথক দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন করেছেন। যা জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ এর ১৪ ধারা মতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নিজে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ এর ১৫ ধারা মতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেছেন।

গত ১৫ ডিসেম্বর চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে তথ্য চাইলে তিনি দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র প্রিন্ট ও দুটি ভোটার তালিকা সম্বলিত তালিকার কপি প্রিন্ট করে তাতে স্বাক্ষর করে বাদীকে সরবরাহ করেন। এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানালে তিনি বাদীকে মামলা করার পরামর্শ দেন। এ নিয়ে মামলা করতে গেলে থানা থেকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন।

মামলার বাদী মীর্জা লিয়াকত আলী বেগ বলেন, ‘তিনি দুটি এলাকার ভোটার হয়ে দুই ভোটারদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করেছেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুটি এলাকার ভোটারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান মো. তাজ উদ্দিন হোসেন শাহ বলেন, ‘ভুলবশত দুই জায়গায় ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছিলাম। নির্বাচনের আগে তা সংশোধন করে নিয়েছি। তবে মামলার বিষয়টি আমি জানি না।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তার মোবাইল নম্বরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি তার জবাব দেননি।

গত ৫ জানুয়ারি চিরিরবন্দর উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আলোকডিহি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) হিসেবে মো. তাজ উদ্দিন হোসেন শাহ নির্বাচিত হন। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি শপথ গ্রহণ করবেন।

এমদাদুল হক মিলন/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।