সেন্ট্রাল হাসপাতালের সেই এমডির ‘অনৈতিক কাণ্ডের’ প্রমাণ মিলেছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০৬:৫৩ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২

নোয়াখালীর মাইজদী কোর্টের সেন্ট্রাল হাসপাতালের অপসারিত সেই ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুল ইসলাম সোহাগের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক কাণ্ডের প্রমাণ পেয়েছে গঠিত তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় তাকে যে কোনো ধরনের হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত না রাখার সুপারিশও করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত এমডি সাইফুল ইসলাম সোহাগকে বহিষ্কারের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি যাতে অন্য কোথাও কোনো হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারে সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এরআগে সেন্ট্রাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুল ইসলাম সোহাগের বেশ কয়েকটি অনৈতিক ভিডিও ফাঁস হয়। এতে সোহাগের সঙ্গে ওই হাসপাতালের এক রিসিপশনিস্টকে দেখা গেছে। পরে হাসপাতালের এমডির পদ থেকে অপসারণ করলেও জোর করে পদে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি।

হাসপাতালের চেয়ারম্যান নুরুল আলম লিটন জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই সাইফুল ইসলাম সোহাগকে সেন্ট্রাল হাসপাতালের এমডি পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এখন তাকে ব্যবসা থেকেও অপসারণ করতে সিভিল সার্জন নির্দেশ দিয়েছেন।’

এদিকে যে কোনো হাসপাতালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে তা বন্ধের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও ‘মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে’ সেন্ট্রাল হাসপাতালে তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন অভিযোগের বাদী এমরান উদ্দিন আহমেদ।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সিভিল সার্জন অফিসের যোগসাজশে তদন্ত কমিটির সদস্যরা টাকার বিনিময়ে হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রমাণিত বিষয়গুলোর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রমাণসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবো।’

তবে তদন্ত কমিটির প্রধান কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিদ্যুত কুমার বিশ্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘তদন্তে প্রাপ্ত সব কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করে তা জমা দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।’

এ প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার জাগো নিউজকে বলেন, ‘সেন্ট্রাল হাসপাতাল সম্পর্কে আরও নানান অভিযোগ রয়েছে। সব বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাইজদী সেন্ট্রাল হাসপাতালে নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল। পরে এমডির অনৈতিক ভিডিও ফাঁসের পর  ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নারী-পুরুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক সেবিকা জানান, এমডি সোহাগ ও তার মামা ইব্রাহিম এ হাসপাতাল লিজ নিয়ে মামা-ভাগনের রঙ্গশালা বানিয়েছেন। হাসপাতালে তাদের কক্ষে শোবার খাটসহ সব ব্যবস্থা রেখেছেন। মাস শেষে বেতন নিতে সব সেবিকাকে তাদের কক্ষে একা যেতে হয়। তার ইচ্ছার বাইরে গেলে এ হাসপাতালে চাকরি করা দায়। অনেকে বেতন না নিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।