ফারুক হত্যা: সাবেক মেয়র মুক্তি আবারো কারাগারে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি

সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল করেছেন আদালত। পরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ জামিন বাতিলের আদেশ দেন। এ আদালত থেকেই গত ১০ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন মুক্তি। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের কোর্ট পরিদর্শক তানবীর আহমেদ।

মুক্তি ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ভাই। তার বাবা আতাউর রহমান খান ওই আসনের বর্তমান আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মনিরুল ইসলাম খান জামিন জাগো নিউজকে বলেন, দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর সহিদুর রহমান খান মুক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন। এরপর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার আগ পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন তিনি।

পিপি আরও বলেন, সোমবার ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। মুক্তি আইনজীবীদের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ বর্ধিতসহ স্থায়ী জামিন মঞ্জুরের আবেদন করেন। মামলার বাদী নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ আদালতে জামিন না বাড়ানোর আবেদন জানান। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত জামিন বাতিল করে মুক্তিকে আবারো কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, এ মামলার আসামি সাবেক মেয়র মুক্তিকে শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে ও মানবিক কারণে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ তার কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে আনিসুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। আদালতে দেওয়া ওই দুজনের স্বীকারোক্তিতে হত্যার সঙ্গে তৎকালীন ঘাটাইল আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি অভিযুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক ছিলেন। ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর তিনি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তার অন্য দুই ভাই ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা এখনো পলাতক রয়েছেন।

আরিফ উর রহমান টগর/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।