অচেতন করা হলো লোকালয়ে তাণ্ডব চালানো সেই হাতিকে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০৫:৫০ পিএম, ০১ মার্চ ২০২২

 

লালমনিরহাটে পুনাক শিল্প মেলা থেকে শিকল ছিঁড়ে বেরিয়ে শহরে তাণ্ডব চালানো সেই হাতিটিকে প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর ট্র্যাঙ্কুলাইজার বন্দুকের মাধ্যমে অচেতন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে ঢাকা থেকে একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে হাতিটিকে অচেতন করে।

জানা গেছে, সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে লালমনিরহাট পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) আয়োজিত শিল্প মেলায় আসা একটি সার্কাসের প্যান্ডেল থেকে পায়ের শিকল ছিঁড়ে হাতিটি বেরিয়ে পড়ে।

এসময় শহরের বেশ কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর চালায় হাতিটি। পরে মাহুতসহ সার্কাস দলের সদস্যরা একে শান্ত করতে গেলে আরও উত্তেজিত হয়ে রাস্তার গাছপালাসহ মানুষের ওপর আক্রমণ করে। সার্কাস দলের সদস্যরা ব্যর্থ হয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে শহরের সাহেবপাড়ায় তাণ্ডব শুরু করে একটি বিলে নেমে পড়ে হাতিটি। অনেক চেষ্টা করেও সেখান থেকে হাতিটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হননি বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. তপন কুমার দে’র নেতৃত্বে একটি টিম দুপুর ১২টায় লালমনিরহাটে পৌঁছায়। এসময় একটি বাঁশ বাগানে নিয়ে হাতিটিকে ট্র্যাঙ্কুলাইজার বন্দুকের মাধ্যমে অচেতন করা হয়।

jagonews24

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সার্জন তপন কুমার দে বলেন, দুপুরে হাতিটিকে ট্রাঙ্কুলাইজার গান দিয়ে অচেতন করা হয়েছে। পরে জ্ঞান ফেরার জন্য ইনজেকশনও দেওয়া হয়েছে। তার যে উত্তেজিত অবস্থা সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে এখানে আরও ১০-১৫ দিন বেঁধে রাখতে হবে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হক বলেন, সোমবার থেকে চেষ্টা করেও হাতিটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তাই ঢাকার বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটে খবর দেওয়া হয়। তারা এসে ট্রাঙ্কুলাইজার দিয়ে হাতিটিকে অচেতন করেছেন। জ্ঞান ফেরার পর যদি এমন করে তবে হাতিটিকে ট্রাক কিংবা অন্য কোনোভাবে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে নিয়ে যাওয়া হবে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু জাফর জানান, সার্কাসের হাতি হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে শহরের অনেক কিছু ভাঙচুর করেছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে তদন্ত করে অনুদান দেওয়া হবে।

মো. রবিউল হাসান/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।