ইউক্রেন বন্দরে ১১ দিন আটকে আছে টাঙ্গাইলের রবিউল
ইউক্রেন স্থলবন্দরে ১১ দিন ধরে আটকেপড়া বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে কর্মরত রবিউল আওয়ালকে (৩২) উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে তার পরিবারে। রবিউলকে প্রাণে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে রবিউলসহ জাহাজটিতে ২৮ নাবিককে প্রাণে বাঁচতে স্বজনদের কাছে আকুতি জানিয়ে মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি।
রবিউল আওয়াল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে।
রবিউলের বাবা হোসেন আলী জানান, ১১ দিন ধরে তারা ওই জাহাজে আটকে আছেন। রবিউল বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার। আজও (বৃহস্পতিবার) তার সঙ্গে কথা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় বোমা কম ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রবিউল। যে কোনো মূল্যে তাদের রক্ষা করতে সরকারসহ বিভিন্নজনের সহযোগিতা কামনা করছেন।
এর আগে জাহাজটির প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান মিসাইল হামলায় নিহত হয়েছেন। এরপর থেকেই জাহাজে থাকা ২৮ জন ক্রু আতংকের মধ্যে রয়েছেন।
রবিউলের বড় ভাই আজিজুল হক খান জানান, তার ভাইসহ জাহাজে ২৮ জন বাংলাদেশি ক্রু রয়েছেন। তারা সবাই আতংকের মধ্যে রয়েছেন। ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিনিয়তই ক্ষুদে বার্তায় যোগাযোগ হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ছয় মাস ধরে রবিউল বাংলা সমৃদ্ধি জাহাজে কর্মরত। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে তার ছোট ভাই ইউক্রেন বন্দরে আটকা পড়ে। বুধবার রবিউল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ক্ষুদে বার্তায় জানায় তাদের জাহাজে রকেট হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। আরও ২৮ জন নাবিক কীভাবে আছে তা জানতে পারছি না।
রবিউলের বাবা হোসেন আলী বলেন, আমার ছেলে ইউক্রেনের বন্দরে আটকা পড়েছে। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই নিরাপদে আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
আরিফ উর রহমান টগর/আরএইচ/জেআইএম