কুমিল্লায় ৩ ছাত্রীর মৃত্যুর শোকে সেই বিদ্যালয় বন্ধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বিজয়পুর লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মীম, তাসপিয়া ও রিমা নিহতের ঘটনায় শোকাহত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের শোকে বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আয়োজন করা হয়েছে মিলাদ ও দোয়ার।
মীম, তাসপিয়া ও রিমারা তিন বান্ধবী বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ছিল। প্রতিদিন একসঙ্গেই বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতো তারা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাদেকুর রহমান ভূঁইয়া জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চোখের সামনেই আমার প্রিয় তিন শিক্ষার্থী মারা গেলো। তাদের নির্মম মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। একসঙ্গে তিন প্রদীপ নিবে যাওয়ার ঘটনায় বিজয়পুর এবং দুর্গাপুর এলাকায় আজ শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্তানতুল্য ছাত্রীদের স্মরণে বৃহস্পতিবার স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। তাদের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করেছি।
৯ মার্চ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর রেলক্রসিং দিয়ে তিন বান্ধবী একসঙ্গে স্কুলে যাচ্ছিল। এ সময় চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মীম ও রিমার মৃত্যু হয়। তাসফিয়া ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে ছিটকে পড়ে সেও মারা যায়। পরে উত্তেজিত জনতা রেললাইন ও কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। পরিদর্শন শেষে ওভারপাসের আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেন।
এদিকে, নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন শেষে প্রাথমিকভাবে তিন পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এসজে/জেআইএম