অবশেষে হদিস মিললো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২১৭ বস্তা চালের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ১০:৫১ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২২

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ টাকা কেজির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২১৭ বস্তা চাল লাপাত্তা হওয়ার খবর প্রকাশের পর অভিযুক্ত দুই ডিলার চালের বস্তাগুলো স্টোর রুমে সরিয়ে রাখেন। সোমবার (১৪ মার্চ) দিবাগত রাতে তাদের স্টোর রুমে চালের বস্তাগুলো নেওয়া হয় বলে দাবি করেন অভিযুক্ত ডিলাররা।

স্থানীয়রা জানান, নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী সোমবার (১৪ মার্চ) সকালে উপকারভোগীরা উপজেলার ময়থা বাজার ও ফুলকী পশ্চিমপাড়া বাজার এলাকায় চাল আনতে যান। এ সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে ইউপি সদস্যসহ আরও কয়েকজনে মিলে চালের বস্তার হিসাব নেন। ময়থা উত্তরপাড়া এলাকার ডিলার নাছরিন বেগমের স্টোর রুমে ১৩০ ও ফুলকী পশ্চিমপাড়া বাজার এলাকায় জাকির হোসেন পাপনের স্টোর রুমে ৮৭ বস্তা চাল কম পাওয়া যায়।

jagonews24

এরপর ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলম বিজু সেখানে গিয়ে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেন। চাল উধাওয়ের বিষয়টি নিয়ে পুরো জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে তোপের মুখে পড়েন অভিযুক্ত ডিলার ও সংশ্লিষ্টরা। এক পর্যায়ে রাতের আধাঁরেই ডিলারদের স্টোর রুমে উধাও হওয়া চালের বস্তা তোলা হয়।

ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল আলম বিজু জানান, বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের কারণে অভিযুক্ত দুই ডিলার উধাও হওয়া চাল তাদের স্টোর রুমে তুলেছেন। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে উধাও হওয়ায় প্রতিটি বস্তাতেই ৩০ কেজির স্থলে দুই থেকে তিন কেজি করে চাল কম রয়েছে।

তিনি আরও জানান, কম চাল থাকার কারণে বস্তাগুলোর বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু আগে থেকে স্টোর রুমে থাকা বস্তার চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তার ধারণা, স্টোর রুমের তোলার আগেই করটিয়ায় উধাও হওয়ায় চালগুলো বিক্রি করা হয়েছিল। চাপে পড়ে রাতেই আবার বেশি দামে কিনে স্টোর রুমে তোলা হয়েছে।

jagonews24

চালের বস্তা উধাওয়ের কথা অস্বীকার করে ফুলকী পশ্চিমপাড়ার ডিলার জাকির হোসেন পাপন বলেন, পরিবহনজনিত সমস্যায় অবশিষ্ট চালের বস্তাগুলো আশপাশের দোকানে রাখা হয়েছিল। পরে রাতেই সেগুলো স্টোর রুমে আনা হয়েছে। তবে সেই চালের বস্তার ওজন কিভাবে কম হলো সে বিষয়টি নিশ্চিত নন তিনি।

বাসাইল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কনক কান্তি দেব নাথ জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে চাল উধাওয়ের প্রমাণ পেয়েছি। এছাড়াও উধাও হওয়া চালের বস্তা স্টোর রুমে তোলা হলেও ওই বস্তায় চাল কম রয়েছে। বস্তায় নেই পুষ্টিচালে স্টিকার। কম থাকা বস্তায় চাল পরিপূর্ণ করে বিতরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বস্তায় চাল কম থাকা ও পুষ্টিচাল না থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ডিলারদের শোকজ করা হয়েছে। সন্তোষ জনক জবাব না পেলে তাদের ডিলারশিপ বাতিল করা হবে। এ অপরাধে শুধু তাদের ডিলারশিপই বাতিল নয়, জেল, জরিমানাও হতে পারে।

এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভিন জানান, খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত হচ্ছে। প্রমাণ পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরিফ উর রহমান টগর/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।