সেলিম ‘শয়তান-দুশ্চরিত্রের লোক’: এমপি একরামুল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ১০:০৫ পিএম, ২০ মার্চ ২০২২
বক্তব্য রাখছেন একরামুল করিম চৌধুরী

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমকে ‘শয়তান ও দুশ্চরিত্রের লোক’ বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী।

রোববার (২০ মার্চ) দুপুরে সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটার গ্লোব বাজার হারুনুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের আয়োজনে একযুগ পূর্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

একরাম চৌধুরী বলেন, ‘সেলিম ভাই নোয়াখালী শহরে তিনটা বিল্ডিং করেছেন। এতো কানি কানি জমি দখল করছেন। এবার কিন্তু টেঙ্কি ভাঙাভাঙি (ধাক্কাধাক্কি) চলবে। শয়তান লোক, দুশ্চরিত্রের লোক, ৪০ বছর চেয়ারম্যানি করে হিন্দুদের ওপর শোষণ করেছেন। আমি এমপি না হলে এসবের কিছুই জানতাম না।’

তিনি আরও বলেন, ‘চোখের সামনে আমার দলকে যারা ছিন্নভিন্ন করে দিতে চায়। যারা সুবর্ণচরের আওয়ামী লীগের সভাপতি বানাতে চায় রাজাকারের বংশধরদের। আমি এটা হতে দেব না। রাজাকারের কোনো বংশধর আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে পারে না।’

এমপি একরাম বলেন, ‘আজকে নোয়াখালীর রাজনীতি যখন সারা বাংলাদেশের আদর্শের মডেল। যাকে সভাপতি বানানোর জন্য আমার ছয় কোটি টাকা খরচ হয়েছিল সেই বেইমানই ওবায়দুল কাদেরের তালে পড়ে আমাকে বাহির করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। টের পাবেন শেখ হাসিনার লাস্ট দাবার চালে। তিনি নানক ভাইয়ের মাধ্যমে চারবার আমাকে চুপ থাকতে বলেছেন’

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমকে ফোন দিলে রিসিভ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আহ্বায়ক সাহেব ব্যস্ত আছেন, আপনার সঙ্গে এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ওমর ফারুক, অধ্যক্ষ মোনায়েম খান, চরবাটা ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রাজিব, চরক্লার্ক ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল বাসার, প্রফেসর সফিকুল ইসলাম সাজু, কবি ও লেখক সিরাজুল ইসলাম মনির ও চরজুবিলীর চেয়ারম্যান সাইফুল্লা খসরু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে টানা ১৭ বছর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন একরামুল করিম চৌধুরী। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনেও তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ওই কমিটি অনুমোদনের আগেই গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সম্মেলনে ঘোষিত কমিটি ভেঙে দিয়ে ৮৭ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আহ্বায়ক করা হয় ভেঙে দেওয়া কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমকে। আর অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র সহিদ উল্যাহ খানকে দুই যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।

ইকবাল হোসেন মজনু/আরএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।