প্রবাসীর মৃত্যুতে নড়িয়ায় এসআইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ১১:০৬ এএম, ৩০ মার্চ ২০২২

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পুলিশ ও প্রতিপক্ষের ধাওয়ায় ইতালি প্রবাসী চাঁন মিয়া হাওলাদারের (৪০) মৃত্যুর অভিযোগে পুলিশের এসআইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) দুপুরে শরীয়তপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চাঁন মিয়ার স্ত্রী পারুল আক্তার মামলাটি করেন।

নিহত চাঁন মিয়া হাওলাদার উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের পন্ডিতসার দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত ফজল হক হাওলাদারের ছেলে। তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

আদালতে মামলা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চাঁন মিয়া ইতালিতে থাকতেন। গত ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসেন। চাঁন মিয়ার বন্ধু নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়নের নলতা গ্রামের রুবেল সরদার (৩০) ও নিতিরা গ্রামের তুহিন পেদাও (৩২) ইতালি থেকে দেশে আসেন। সম্প্রতি ইতালিতে চাঁন মিয়ার সঙ্গে তাদের ঝগড়া হয়। আবার মিমাংসাও হয়। সেই ঝগড়ার জের ধরে গত ১৬ মার্চ দুপুরে নড়িয়া বাজারে গেলে একা পেয়ে রুবেল ও তুহিন মিলে চাঁন মিয়াকে মারধর করেন।

প্রাথমিক চিকিৎসাও করান চাঁন মিয়া। এ বিষয় নিয়ে ২১ মার্চ বিকেলে স্থানীয় ঘড়িসার বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এই ঘটনায় চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে রুবেলের স্ত্রী লিজা আক্তার নড়িয়া থানায় একটি অভিযোগ করেন।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ২২ মার্চ দুপুরে নড়িয়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন ও কনস্টেবল নাজিম উদ্দীন চাঁন মিয়ার বাড়িতে তদন্তে যায়। পুলিশ চাঁন মিয়ার ঘরের দরজায় লাথি মেরে ঘর থেকে বের হতে বললে চাঁন মিয়া ঘর থেকে বের হন। এ সময় তাকে পুলিশ ও রুবেল সরদার, তুহিন পেদাসহ ১০-১২ জন মিলে এলোপাথাড়ি মারধর করতে থাকে।

তখন চাঁন মিয়া দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করলে পুলিশ ও প্রতিপক্ষের লোকজন ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে পন্ডিতসার দক্ষিণপাড়া এলাকার নাজমুলদের বাড়ির পুকুর পাড়ে পড়ে যান চাঁন মিয়া। তারপরও চাঁন মিয়াকে মারধর করতে থাকেন তারা। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে নড়িয়ার ঘড়িসার আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুরাদ হোসেন মুন্সী জানান, শরীয়তপুরে পুলিশ ও প্রতিপক্ষের ধাওয়ায় নিহত চাঁন মিয়ার স্ত্রী পারুল আক্তার বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি করেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আল ইমরান চাঁন মিয়ার মৃত্যুর ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন চার কার্যদিবসের মধ্যে তা পুলিশের কাছে জানতে চেয়েছেন।

নিহত চাঁন মিয়ার স্ত্রী পারুল আক্তার বলেন, পুলিশ ও রুবেল-তুহিন আমার স্বামীকে মাইরা ফালাইছে। থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। তাই এসআই ইকবাল হোসেন, কনস্টেবল নাজিম উদ্দীন, প্রতিপক্ষ রুবেল, তুহিন, লিজা, রফিক, মাসুম, দিপক, সাইমন, সোহাগের নাম উল্লেখ করে ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসমী করে আদালতে মামলা করি। আমি স্বামীর হত্যার বিচার চাই।

নড়িয়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন বলেন, থানায় যেকোনো মামলা বা অভিযোগ হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা তদন্তে যাই। আমরা চাঁন মিয়ার বাড়িতে তদন্তে গেলে তিনি পালিয়ে যান। আমরা তাকে ধাওয়া করিনি।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. আবীর হোসেন বলেন, শুনেছি চাঁন মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় দুই পুলিশসহ ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত একটি রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলেছেন।

ছগির হোসেন/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।