ফের বেড়েছে তিস্তার পানি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০৬:৫২ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০২২

অসময়ে উজানে ভারী বৃষ্টিপাতে তিস্তার পানি আবারও বেড়েছে। এতে তলিয়ে গেছে লালমনিরহাট জেলায় তিস্তার চরে কৃষকের লাগানো মরিচ, পেঁয়াজ, রশুনসহ নানা ফসলের ক্ষেত।

রোববার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে ৫১ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার পানি ছিল যা বিপদসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার নিচে।

এর আগে গত ২৮ মার্চ হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে তিস্তার চরে লাগানো বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়। তবে সেই পানি নেমে যাওয়ার পরপরই আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তিস্তার বুকে চাষাবাদ করা ফসল ডুবে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা।

jagonews24

কৃষকরা বলছেন, প্রতিবছর শীতকালে পানি কমে যাওয়ার পর তারা তিস্তার বালুকাময় প্রান্তরে নানারকম ফসল চাষ করেন। এবার চৈত্র মাসে হঠাৎ তিস্তার পানি বাড়ায় কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

তিস্তা ব্যারেজ এলাকার পেঁয়াজ চাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, জীবনেও দেখিনি চৈত্র-বৈশাখ মাসে তিস্তার পানি বাড়ে। পানি বাড়ার কারণে আমার ছয় বিঘা পেঁয়াজ ক্ষেত ডুবে নষ্ট হয়েছে। এতে আমার ৩০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি অভাবী মানুষ। নিজের জায়গা-জমি নেই। তাই তিস্তার বুকে চাষাবাদ করে জীবনযাপন করি। এখন আমার অনেক ক্ষতি হলো।

jagonews24

তিস্তাপারের কদম আলী বলেন, সকাল থেকে তিস্তার উজানে পানি বেড়েছে। গত সাতদিনের চেয়ে এখন বেশি পানি রয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, তিস্তার চরের প্রায় ছয় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। নদীর পানি বাড়ায় পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন আমরা অসহায় হয়ে পড়ছি।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা বলেন, সকাল থেকে উজানে বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তায় পানি বেড়েছে। তবে বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় বর্তমানে ছয় হাজার কিউসেক পানি রয়েছে। তবে পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার বুকে চাষ করা কিছু ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

লালমনিরহাট কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ বলেন, তিস্তায় পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে শুনেছি। রংপুরে মিটিংয়ে আছি। আগামীকাল (সোমবার) কৃষকদের খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। তবে জেলায় এখনো ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।