ঈদে আরামদায়ক পোশাকে থাকছে পরিমিত রঙের ছোঁয়া

এমদাদুল হক তুহিন
এমদাদুল হক তুহিন এমদাদুল হক তুহিন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৪ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২৬
ঈদ ঘিরে দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুচির সংমিশ্রণে পোশাকের পসরা সাজিয়েছে ‘বিশ্বরঙ’/ছবি: বিশ্বরঙের সৌজন্যে

• আরামদায়ক পোশাক ও পরিমিত রঙে প্রাধান্য দিচ্ছে বিশ্বরঙ
• নকশায় থাকছে ঐতিহ্য আর প্রশান্তির ছোঁয়া
• সব বয়সীর জন্য থাকছে ঈদের পোশাক
• ক্রেতাদের ভালো সাড়া মিলছে, বিক্রি বাড়ার আশা

যে কোনো উৎসব-পার্বণ আরও রঙিন হয়ে ওঠে নতুন পোশাকের ছোঁয়ায়। সব বয়সী মানুষই চায় উৎসবের দিনটিতে নতুন পোশাক গায়ে জড়াতে। ফলে বছরের বিশেষ সময়গুলোতে দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাকের পসরা সাজায়। আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘিরে তেমনই আয়োজন নিয়ে এসেছে দেশীয় ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘বিশ্বরঙ’।

ব্র্যান্ডটির এবারের ঈদ আয়োজনে পোশাকের প্যাটার্নে কিছুটা ভিন্নতা আনা হয়েছে। যথারীতি নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কারুশিল্পের পাশাপাশি প্রতিটি নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রশান্তির ছোঁয়া। রঙের ব্যবহারে রাখা হয়েছে অফহোয়াইট, সাদা, লাল, মেরুন, গোল্ডেনসহ মাটির রঙ, পাতার সবুজ ও আকাশের নীলের পরিমিতবোধ।

পোশাকের ট্রেন্ডে এবার স্লিভ ও নেকেও কিছুটা বৈচিত্র্য এনেছে বিশ্বরঙ। আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই আরামদায়ক পোশাকে বরাবরই ক্রেতাদের ঝোঁক থাকে। সে দিকটিও বিচেনায় নেওয়া হয়েছে। ঈদ ঘিরে বেচাকেনায় ভালো সাড়া পাওয়ার আশায় ব্র্যান্ডটি।

jagonews24ছবি: বিশ্বরঙের সৌজন্যে

সম্প্রতি জাগো নিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটিই বলছিলেন বিশিষ্ট ফ্যাশন ডিজাইনার ও দেশীয় পোশাক ব্র্যান্ড বিশ্বরঙের কর্ণধার বিপ্লব সাহা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এমদাদুল হক তুহিন

উৎসব পার্বণে নতুন ট্রেন্ড নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৩১ বছর ধরে কাজ করছে দেশীয় এই ফ্যাশন ব্র্যান্ড। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ঈদ ঘিরে ফ্যাশন সচেতনদের জন্য বিশ্বরঙ নিয়ে এসেছে নতুন সব ট্রেন্ডি ডিজাইন। দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুচির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে প্রকৃতির বিভিন্ন ফর্মের সঙ্গে গ্রাফিক্যাল বাহারি নকশা ও বৈচিত্র্যময়তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সাজিয়েছে এবারের ঈদ আয়োজন।

jagonews24ছবি: বিশ্বরঙের সৌজন্যে

জাগো নিউজ: এবার ঈদে এখন পর্যন্ত ক্রেতাদের কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

বিপ্লব সাহা: এখন পর্যন্ত ক্রেতাদের কাছ থেকে সাড়া ভালো পাচ্ছি। এক সপ্তাহ ধরে বিক্রি শুরু হয়েছে। আশা করি সামনের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে।

জাগো নিউজ: ঈদে এবার আপনাদের নতুনত্ব কী?

বিপ্লব সাহা : পোশাকের প্যাটার্নে এবার ভিন্নতা এসেছে। আমাদের প্রতিটি ডিজাইনে থাকছে প্রশান্তির ছোঁয়া। রঙের ব্যবহারে বৈচিত্র্য ও পরিমিতবোধ রাখা হয়েছে। পোশাকগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে ধুপিয়ান সিল্ক, জয় সিল্ক, তসর সিল্ক, সফট সিল্ক, কাতান, বেলবেট ছাড়াও বিভিন্ন রকম অর্নামেন্টেড কাপড়। কাজের মাধ্যম হিসেবে এসেছে এমব্রয়ডারি, জারদৌসী, কারচুপি, কাটওয়ার্ক, স্ক্রিন প্রিন্টসহ মিশ্র মাধ্যমের নিজস্ব বিভিন্ন কৌশল।

jagonews24বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী বিপ্লব সাহা/ছবি: বিশ্বরঙের সৌজন্যে

জাগো নিউজ: ঈদে পোশাকের বাজারে নতুন কোনো ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে কি না?

বিপ্লব সাহা: নতুন কিছু ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যাবে। সেক্ষেত্রে আপনার স্লিভ ও নেক-এ কিছু চেঞ্জ এসেছে। প্রিন্টে একটু ভেরিয়েশন আসছে। স্ক্রিন, ব্লক, ডিজিটাল বা গোল্ড প্রিন্টের বেশকিছু কাজ হচ্ছে। এমব্রয়ডারি ও কারচুপিগুলোরও কাজ হচ্ছে। একটু প্যাস্টেল ট্যাপেস্ট্রি ওয়ার্কের কাজ হচ্ছে।

শাড়িতে প্যাটার্ন বেজড ডিজাইনগুলো একটু বেশি চলছে। পাঞ্জাবিতে সিম্পলিসিটি ও গর্জিয়াস—দুই রকম কাজই আছে। তবে আমরা যেহেতু কটন বেজড কাজ বেশি করি, ফলে আরামদায়ক পোশাকের দিকে প্রাধান্যও বেশি দিচ্ছি।

jagonews24ছবি: বিশ্বরঙের সৌজন্যে

জাগো নিউজ: এবার ঈদে আপনাদের মূল ফোকাস কোন বিভাগে—পুরুষ, নারী, শিশু, নাকি পারিবারিক সংগ্রহ?

বিপ্লব সাহা: আমরা বরাবরই ফ্যামিলি পোশাক তৈরি করি। দুই বছর বয়সী থেকে বয়োবৃদ্ধদের জন্যও পোশাক নিয়ে কাজ করি। বিশ্বরঙ মানেই পরিবার। পরিবারের প্রতিটি বয়সের মানুষকে নিয়ে আমরা চিন্তা করি। তাদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত, ঘরোয়া পরিবেশ থেকে বাইরে যাওয়া পার্টি পর্যন্ত আমরা আমাদের আয়োজনটা করি। অতএব এখানে নারী-পুরুষ বা শিশু-বৃদ্ধ বলে আলাদা কিছু নেই।

jagonews24ছবি: বিশ্বরঙের সৌজন্যে

জাগো নিউজ: দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন নির্বাচিত সরকার এসেছে। সেদিক থেকে ব্যবসায়ও কিছুটা স্থিতিশীলতা ফেরার কথা। বর্তমান সরকারের সময়ে প্রথম ঈদ ঘিরে বেচাকেনা কেমন প্রত্যাশা করছেন?

বিপ্লব সাহা: নতুন সরকার এসেছে বলেই বেচাকেনা খুব ভালো হবে এমনটি আশা করছি না। কারণ, করোনা মহামারির পর থেকে শুরু করে বিগত বছরগুলোতে নানান জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি। ব্যবসায়ীদের প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ফেস করতে হচ্ছে। অনেক ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়ে গেছে, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা চলছে। অনেকে চাকরি হারিয়ে দিশাহারা। আর যাদের হাতে টাকা ছিল তাদের অনেকে এখন দেশছাড়া।

তারপরও মানুষ তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে ঈদের সময় একটু কেনাকাটা করতে। (বেচাকেনা) খুব যে বেশি ভালো হবে, আমার তেমনটি মনে হয় না। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে ব্যবসায় অলরেডি এক ধরনের ধস তো নেমেছেই। সেগুলোর প্রভাব ঈদের কেনাকাটায় কিছুটা পড়তেই পারে।

jagonews24ছবি: বিশ্বরঙের সৌজন্যে

জাগো নিউজ: পোশাকের চড়া দাম নিয়ে অনেক সময়ই ক্রেতারা অভিযোগ করেন। এ নিয়ে যদি বলতেন।

বিপ্লব সাহা: পোশাকের দাম নিয়ে অভিযোগ ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা। আমার মনে হয় যার যেটুকু সামর্থ্য সে অনুযায়ী কেনাকাটা করলেই আর কোনো সমস্যা নেই। একটি লাউয়ের দাম যখন ১০০ টাকা হয়, সেটি নিয়ে কেউ কোনো কথা বলে না। তো কাপড়টা যারা তৈরি করেন, যারা এর পেছনে জড়িত; প্রত্যেকেরই জীবন-জীবিকা এটি ঘিরে। প্রত্যেকেরই জীবনযাত্রার মান অনেক ব্যয়বহুল হয়েছে।

নব্বইয়ের দশকে আমরা পাঞ্জাবি সেলাই করতাম ২৫ টাকা দিয়ে, সেই পাঞ্জাবি এখন সেলাই করতে হয় ৪০০ টাকা দিয়ে। ক্রেতাদের এটা বুঝতে হবে যে, এগুলো একটির সঙ্গে অন্যটি রিলেটেড।

jagonews24ছবি: বিশ্বরঙের সৌজন্যে

জাগো নিউজ: গত ঈদের চেয়ে এবার পোশাকের দাম বাড়িয়েছে ব্র্যান্ডগুলো, ক্রেতাদের এমন অভিযোগও রয়েছে। কী বলবেন?

বিপ্লব সাহা: ক্রেতাদের কী অভিযোগ, তা আমি জানি না। আর আমি তো মার্কেট জরিপ করতেও যাইনি। আমি আমাদের বিষয়টি বলতে পারবো। আমাদের এখানে ১ হাজার টাকার শাড়ি পাওয়া যায়, আবার ৫ হাজার টাকার শাড়িও পাওয়া যায়। কোনো কোনো শাড়ির দাম ২০ হাজার টাকাও।

আমি মনে করি, ক্রেতা সাধারণের কারও যদি মনে হয় রাস্তার ভ্যান থেকে কিনবেন, তো কিনতে পারেন। গাউছিয়া, ইসলামপুর, এলিফ্যান্ট রোড আছে, আবার বড় বড় ব্র্যান্ডও আছে। রুচি ও আর সামর্থ্য বুঝে কেনাকাটার নানান জায়গা রয়েছে। কোনো একটি পোশাক কেনার জন্য ক্রেতাদের তো জোর করা হয় না। কিন্তু যখনই পছন্দের পোশাকটি ক্রেতার সাধ্যের বাইরে চলে যায় তখনই দাম নিয়ে অভিযোগ ওঠে। বলা হয় দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। কোনো প্রোডাক্টের দাম কম কিংবা বেশি—সেটি মূলত মজুরি ও কারিগরের ওপর নির্ভর করে।

jagonews24ছবি: বিশ্বরঙের সৌজন্যে

জাগো নিউজ: ঈদের পোশাকে আপনারা বিশেষ কোনো ছাড় বা অফার দিচ্ছেন কি না?

বিপ্লব সাহা : ঈদে আমাদের পোশাকে ছাড় রয়েছে। বেশ কিছু ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি আছে। ওই কার্ডগুলো ব্যবহার করলে তারা ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন। এছাড়া যারা আমাদের সদস্য বা নিয়মিত ক্রেতা, তাদের জন্য কেনাকাটায় ১৫ শতাংশ ছাড় রয়েছে। আরও কিছু বিষয় আছে, যা বিশ্বরঙের পেজ ও ওয়েবসাইটে গেলে ক্রেতারা দেখতে পারবেন।

জাগো নিউজ: বিশ্বরঙ অনলাইনে পোশাক ব্যবসায় গ্রাহকদের কেমন সেবা দিচ্ছে?

বিপ্লব সাহা: আমরা অনলাইনেও অনেক অ্যাকটিভ, বলতে পারেন সবসময় অ্যাকটিভ। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে ক্রেতাদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। যত দ্রুত সম্ভব পছন্দের পোশাকটি ক্রেতার হাতে পৌঁছে দিচ্ছি। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরে, এমনকি দেশের বাইরেও আমাদের ওয়েবসাইটের (www.bishworang.com.bd) মাধ্যমেও ক্রেতাদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

ইএইচটি/এমকেআর/এমএমএআর/এমএফএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।