কুকুর নিধনে ফরিদপুর পৌর কর্তৃপক্ষের মাইকিং

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০২:০৩ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০২২
ফাইল ছবি

চলছে পবিত্র রমজান মাস। এর মধ্যেই প্রাণী নিধনে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে ফরিদপুর পৌরসভা। বেওয়ারিশ কুকুর নিধনে কয়েকদিন ধরে মাইকিংও করছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

পৌরবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুকুর নিধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। যদিও প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯-এর ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো মালিকবিহীন প্রাণী হত্যা বা অপসারণ দণ্ডনীয় অপরাধ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ এপ্রিল থেকে ফরিদপুর পৌরসভাজুড়ে কুকুর নিধনের কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনির। সপ্তাহব্যাপী পৌর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় চলবে এ কার্যক্রম। সে লক্ষ্যে কয়েকদিন ধরে ফরিদপুর পৌরসভা থেকে মাইকিং করে প্রচার-প্রচারণা করা হচ্ছে।

মাইকিংয়ে বলা হচ্ছে, কিছুদিনের মধ্যেই শহরে কুকুর নিধন শুরু হবে। সবাই যার যার পালিত কুকুর যেন ঘরে আটকে রাখে।

এদিকে কুকুর নিধনের বিষয় নিয়ে পিএডাব্লিউ ফাউন্ডেশন (পিপল ফর অ্যানিম্যাল ওয়েফেয়ার) রাকিবুল হক এমিল তাদের ভেরিফাইড পেজে লিখেছেন, ‘ফরিদপুরের পৌরবাসীরা জানালেন সেখানে যে কোনো সময় গণহারে কুকুর নিধন করা হবে। এ বিষয়ে মাইকিং করেছে এলাকায়। প্যানেল মেয়র এবং শেষ পর্যন্ত মেয়রের পারসোনাল নম্বর যোগাড় করে ফোন করা হলো। কেউ ফোন ধরছেন না। মেয়রকে মেসেজ পাঠিয়ে রেখেছি। ফরিদপুরের প্রাণিপ্রেমীরা সচেতন থাকবেন। এরকম কিছু ঘটতে দেখলে বাধা দিবেন। লাইভ করবেন। এটা রাষ্ট্রের আইন বিরোধী এবং সরকারের জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচিকে ব্যাহত করবে।’

এ বিষয়ে ফরিদপুরের কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বিজয় পোদ্দার জাগো নিউজকে বলেন, ‘সব প্রাণীরই বেঁচে থাকার অধিকার আছে। সবাইকে সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের বিষয়টিও দেখতে হবে। সঠিকভাবে আইন অনুসরণ করে কুকুর নিধন না করে বিকল্প পথও অনুসরণ করা যেতে পারে।’

ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী জাগো নিউজকে বলেন, ‘কুকুর নিধন সম্পূর্ণ আইন বিরোধী। এভাবে নির্বিচারে কুকুর হত্যা যাতে না করে আমি এজন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা জাগো নিউজকে বলেন, ‘পৃথিবীতে মানুষের যেমন অধিকার আছে, তেমনি প্রত্যেক প্রাণীর অধিকার আছে বেঁচে থাকা আর নিরাপত্তার। তাই বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের নামে জীব হত্যা কোনোভাবেই কাম্য কিংবা সমর্থনযোগ্য নয়।’

ফরিদপুর পৌরসভার সচিব তানজিলুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফরিদপুর শহরে কুকুরের সংখ্যা ও উপদ্রব অনেক বেড়ে গেছে। মাঝে মধ্যে কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী ও সাধারণ পথচারী। অনেকেই আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বা নিচ্ছেন। মোড়ে মোড়ে বেওয়ারিশ অসংখ্য কুকুর। কুকুর আতঙ্কে শিশু বাচ্চা মহিলারা এবং বয়স্ক বৃদ্ধরা ও সাধারণ পথচারীরা অতিষ্ঠ। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না।’

কুকুর নিধনের বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনির জাগো নিউজকে বলেন, পৌরসভার অর্থায়নে ও পরিচালনায় সপ্তাহব্যাপী কুকুর নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এজন্য পৌর এলাকায় সীমিত পরিসরে মাইকিং করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পৌরবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই কুকুর নিধন করা হবে। তবে কারও পালিত কুকুর মারা হবে না। তাদের পালিত কুকুরকে গলায় বেল্ট বা চিহ্ন দিতে বলা হয়েছে। শুধুমাত্র পাগলা কুকুর ও ঝুঁকিপূর্ণ কুকুর নিধন করা হবে। অনেকটা গোপনেই এ নিধন অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এন কে বি নয়ন/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।