কমছে পানি: বাঁধ রক্ষায় মরিয়া প্রশাসন ও স্থানীয়রা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১২:৪০ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০২২

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার ধনু নদের পানি কমতে শুরু করেছে। বুধবার সকালে বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে অন্যান্য স্থানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। পানির চাপে অনেক জায়গায় বাঁধের বিভিন্ন অংশে ধস দেখা দিয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় এলাকাবাসী নিজ নিজ উদ্যোগে বাঁধরক্ষার কাজ করছেন।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে ধনু নদের পানি বিপৎসীমায় অতিক্রম করে। তবে বুধবার সকালে বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার কীর্তনখোলা, চইত্যা, পাইয়ার বাঁধসহ সকল ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ হুমকিতে রয়েছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরী উপজেলার কীর্তনখোলা বাঁধ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সকাল থেকে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ এলাকায় স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে কাজ করছে। স্থানীয় কৃষকদের সহায়তায় বাঁশ, কাট, মাটি দিয়ে বেড়িবাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে তারা। তা না হলে যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করতে পারে।

বোরো ফসলই হাওর এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা। এই ফসল ঘরে তুলতে না পারলে প্রতিটি পরিবারে নেমে আসবে দুঃখ দুর্দশা। অনেকেই ধার দেনা করে বোরো ফসল আবাদ করেছেন। তাদের আশা উৎপাদিত ধান বিক্রি করে পরিশোধ করবেন দেনা পাওনা।

jagonews24

এদিকে খালিয়াজুরি উপজেলার কীর্তনখোলা বাঁধে ফাটল ধরেছে। ফসল রক্ষায় ফাটল সারাতে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ হাওর অঞ্চলের শত শত কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষায় দিনরাত কাজ করছেন।

কীর্তনখলা বাঁধে ফাটল ধরার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমানের নেতৃত্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফখরুজ্জামান জুয়েল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এফ এম মোবারক আলী, খালিয়াজুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম আরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শত শত কৃষক বাঁশ, চাটি, বালির বস্তাসহ বাঁধরক্ষার বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বাঁধরক্ষার চেষ্টা করেছেন।

জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এফ এম মোবারক আলী বলেন, হাওরাঞ্চলে এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৩ মেট্রিক টন ধান। যার বর্তমান মূল্য ৭০৮ কোটি ৭৩ লাখ ১১ হাজার টাকা। আর জেলায় বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ লাখ ৬ হাজার ৭৩০ মেট্রিক টন ধান।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, হাওরের কীর্তনখোলা বাঁধের দুয়েক জায়গায় ধস দেখা দিয়েছিল। প্রশাসনের লোকজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী সকলেই নিজ নিজ উদ্যোগে বাঁধ রক্ষার জন্য কাজ করছে। আশা করছি, পানি বৃদ্ধি না পেলে নেত্রকোনার হাওরের ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না।

এইচ এম কামাল/এফএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।