উচ্ছেদে গিয়ে ভূমিহীনদের মারলেন, মার খেলেন কর্মকর্তারা
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জেগে ওঠা চরের খাসজমি জবরদখল উচ্ছেদে গিয়ে ভূমিহীনদের ঘর ভাঙচুর ও চারজনকে বেদম মারধরের অভিযোগ উঠেছে ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। পাল্টা সংঘবদ্ধ ভূমিহীনদের লাঠিপেটায় ভূমি অফিসের চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৬ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ২টার দিকে ৭ নম্বর মুছাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুছাপুর ক্লোজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুছাপুর ক্লোজারে বাঁধ দেওয়ার ফলে বিস্তীর্ণ চর জেগে ওঠে। ওই চরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভূমিহীনরা বসতি গড়তে বেশকিছু ঘর নির্মাণ করেন। বুধবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিনের নেতৃত্বে মুছাপুর, রামপুর ও চরফকিরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের লোকজন সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালান।

ভূমিহীনদের অভিযোগ, তাদের নির্মাণ করা ৩৭টি ঘরের মধ্যে নয়টি ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন ভূমি অফিসের লোকজন। এসময় ঘর ভাঙতে বাধা দেওয়ায় ভূমিহীন শেফালী খাতুন (৬০), নুরজাহান (৪৫), খতিজা খাতুন (৫২) ও আবুল কালামকে (৫০) বেদম মারধর করা হয়। এসময় অন্যঘর ভাঙতে গেলে ভূমিহীনদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ভূমি অফিস সূত্র জানায়, অভিযানের সময় স্থানীয় ভূমিহীনরা একত্রিত হয়ে ভূমি অফিসের লোকজনের ওপর হামলা চালান। তাদের লাঠির আঘাতে রামপুর ভূমি অফিস সহায়ক (পিয়ন) আবদুল জব্বার (৩০), মুছাপুর ভূমি অফিস সহায়ক (পিয়ন) মো. মিজানুর রহমান (৩০), চরফকিরা ভূমি অফিস সহায়ক (পিয়ন) মো. নুরনবী (৪৫) ও মুছাপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. জয়নাল আবেদীন (৫২) আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আবদুল জব্বারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে জাগো নিউজকে বলেন, উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু হামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি এসিল্যান্ডকে জিজ্ঞেস করেন।’

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিনকে বারবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
তবে ভূমি অফিসের নামজারি সহায়ক মো. আনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভিযান থেকে ফিরে স্যার বাসায় বিশ্রামে আছেন।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, ভূমি অফিস থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিশাল চরাঞ্চলে ভূমি জবরদখলকারীদের উচ্ছেদের কথা আগে জানালে নিরাপত্তার আরও জোরদার করা হতো বলে জানান ওসি।
২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের চেষ্টায় কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে ডাকাতিয়া নদীর ওপর বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এতে বেড়িবাঁধের মুখে ডাকাতিয়া নদী থেকে আনুমানিক ৭০০ একর নতুন চর জেগে ওঠে। সেখানে বসতি গড়ার চেষ্টা করছেন স্থানীয় ভূমিহীনরা।
ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর/এএসএম