কখন যেন মাথার ওপর ভেঙে পড়ে বিদ্যালয়ের ছাদ
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের জন্মস্থান ও স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যবাহী কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৪০। দ্বিতলবিশিষ্ট ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৬২ সালে। সেই থেকে শুরু। বিদ্যালয়টির এখন বয়স ৮২ বছর। আর ভবনটির বয়স ৬০ বছর।
বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে প্রায় আট শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই খারাপ ও ঝুঁকিপূর্ণ। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন এই বিদ্যালয়ের ভবনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন কক্ষ-বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। রডে মরিচা ধরেছে এবং বেরিয়ে এসেছে।
শিক্ষকরা জানান, আরসিসি পিলার ও গ্রেট বিমগুলোতে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করে। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে আসতে দিতে চান না।
স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহানা দেলোয়ার জাগো নিউজকে বলে, ‘স্কুলের বিভিন্ন জায়গা ভেঙে-চুরে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আমরা আতংকের মধ্যে ক্লাস করছি। আমরা সবসময় আতংকে থাকি।’

আবিদ হাসান নামের আরেক শিক্ষার্থী জাগো নিউজকে বলে, ‘আমরা এতদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছি। পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারি না। শিক্ষকরা যখন পড়ান তখন আতংকে থাকি কখন যেন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে।’
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বর্তমান কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী রাকিব হোসেন ইরান। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের ভবনটি ১৯৬১-৬২ সালে নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন আগে স্কুল ফান্ডের অর্থ থেকে ভবনটি মেরামত করা হয়েছিল। বর্তমানে ভবনটির অবস্থা খুবই নাজুক।
তিনি আরও জানান, স্কুলটিতে এসএসসি, এইচএসসি ও ডিগ্রি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দুই বছর আগে কারিগরি অধিদপ্তর থেকে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে ওই ভবনে কারিগরি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলে। বিষয়টি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে চার তলাবিশিষ্ট একটি নতুন ভবন করে দিলে সমস্যার সমাধান হবে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ বশীর উদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্কুল ভবনে বড় বড় শেল পড়ায় ত্রুটি দেখা দেয়। পরে ধীরে ধীরে শ্রেণিকক্ষগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদের ঢালাইসহ দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টির সময়ে ছাদ চুইয়ে মেঝেতে পানি পড়ে। কক্ষগুলোর দরজা-জানালা ভাঙা। সব সময় দুর্ঘটনার আতংকে থাকতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারমিস সুলতানা বলেন, স্কুলের ভবনটি পরিদর্শন করা হয়েছে। ভবনটির অবস্থা আসলেই খুব নাজুক।
এ প্রসঙ্গে মধুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ওই জায়গায় একটি বহুতল ভবন করে সমস্যার সমাধান করা হবে।
এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিকুর রহমান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, আগামীতে স্কুলের ভবন বরাদ্দ এলে স্কুলটি তালিকাভুক্ত করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার ভিত্তিতে ওই স্কুলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এন কে বি নয়ন/এসআর/জেআইএম