মির্জাপুরের নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি, তলিয়ে গেছে ৮০ হেক্টর জমির ফসল

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৪:০৫ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২২
মির্জাপুরের নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধিতে ফসলের ক্ষতি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হঠাৎ নদ-নদীর পানি বাড়ায় নদীর তলদেশ ও তীরবর্তী এলাকার ৮০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা।

এ উপজেলার ওপর দিয়ে ঝিনাই ও বংশাই নদী প্রবাহিত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রতিবছর এসব নদীর তলদেশ এবং তীরবর্তী এলাকায় চর জেগে ওঠে। বিস্তীর্ণ এসব চরে স্থানীয় চাষিরা বোরো ধানসহ নানা সবজির আবাদ করে থাকেন। তবে এবছর হঠাৎ নদীর পানি বাড়ায় এসব ফসল ডুবে গেছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নে শেহড়াতৈল, টেংরাপাড়া প্যাচপাড়া, বান্দরমারা তরফপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা, রামপুর, ফতেপুর ইউনিয়নের চাকলেশ্বর, নিচিন্দপুর, সুতানড়ী, ফতেপুর, থলপাড়া ও বানকাটা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বোরো ধানসহ আবাদ করা সবজি তলিয়ে গেছে। এতে চাষিরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, এক সপ্তাহ আগেও যেখানে সবুজের সমারোহ ছিল সেখানে এখন জোয়ারের পানি থৈ থৈ করছে।

থলপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ৬০ শতাংশ, হাজী ফজল মিয়ার ১০০, ছানোয়ার, লেবু, খোকা ও ছোরহাবের ১২০, মোস্তফার ৪০, বজল মিয়ার ১০০, শামছু মিয়ার ১৫০, আপেল মিয়ার ৮০, লুটনের ৮০, বিপ্লবের ১০০ ও জাহাঙ্গীর আলমের ১১০ শতাংশসহ উপজেলার শতাধিক একর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

Mirzapur-2.jpg

থলপাড়া গ্রামের চাষি শামছু মিয়া ও আপেল মিয়া জানান, অন্য বছরের চেয়ে এবার ধান ভালো হয়েছিল। এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শুরু করতেন কৃষক। অসময়ের পানিতে এলাকার চাষিদের স্বপ্ন তলিয়ে গেছে।

শেহড়াতৈল গ্রামের কৃষাণী আমিনা বেগম বলেন, আমরা ২০ হাজার টাকা খরচ করে করলা চাষ করেছি। কিন্তু অসময়ে নদীতে পানি এসে সব শেষ করে দিয়েছে।

গ্রামটির বোরো চাষি দুর্লভ সরকার বলেন, ৫০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। চৈত্র মাসের জোয়ারের পানিতে আমার আধাপাকা ধান সব তলিয়ে গেছে। সারাবছর কী খাবেন তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।

একইভাবে চাকলেশ্বর গ্রামের রহম সিদ্দিকী, আবু বক্কর মৃধা, করম সিদ্দিকী, মান্নান মৃধা, নাসির মৃধা, শেহড়াতৈল গ্রামের গৌর সরকার, হারাধন ও প্রহল্লাদের আধাপাকা বোরো ধান ও করলা খেত জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।

মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার পাল বলেন, নদীতে অসময়ে হঠাৎ অস্বাভাবিক পানি বাড়ায় নদীর তলদেশ ও তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৮০ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এছাড়া শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি অফিসের লোকজন এলাকায় গিয়ে ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা করছেন। নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ফসলের ক্ষতি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

এস এম এরশাদ/এমআরআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।