একের পর এক বসতবাড়ি গিলছে ব্রহ্মপুত্র

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০২২
বর্ষার আগেই ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার শত শত মানুষ

বর্ষার আগেই ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের নদীপাড়ের শত শত মানুষ। ইউনিয়নের মোল্লার হাট এলাকায় প্রায় তিন কিলোরমিটার এলাকাজুড়ে অব্যাহত রয়েছে এ ভাঙন। ভাঙনে ঐতিহ্যবাহী মোল্লারহাটসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের ঘরবাড়ি, গাছ-পালাসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানি কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিনে উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। ইউনিয়নের বালাডোবা, চিতলিয়া, শেখ পালানু, পূর্ব দুর্গাপুর গ্রাম ও মোল্লারহাট এলাকার পার্শ্ববর্তী পাঁচটি গ্রামের প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে নদীতে চলে গেছে ঐতিহ্যবাহী মোল্লারহাট বাজারের অর্ধেক অংশ।

প্রতিদিনই ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে গাছ-পালাসহ ফসলি জমি। হুমকিতে পড়েছে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ চারটি মাদরাসা।

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে উত্তর বালাডোবা গ্রামের আব্দুস সামাদ (৫৫) ও হাবিবুর রহমানের (৪৭) বাড়ির অর্ধেক নদীতে তলিয়ে গেছে। বাকি অর্ধেক ভিটায় একটি করে ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা বসবাস করছেন।

jagonews24

হাবিবুর রহমান জানান, এবার দিয়ে ছয়বারের মতো তার বাড়ি ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে বিলীন হয়েছে। তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে একটি ঘরের বেড়া, চাল খুলে সরিয়ে অন্যের জায়গায় রেখেছেন। দু-একদিনের মধ্যে বাকি ঘরও সরিয়ে নিতে হবে।

পার্শ্ববর্তী ভোগলের কুটি গ্রামের মরিয়ম বেগমেরও (২৭) একই অবস্থা। তার ঘর একেবারেই ব্রহ্মপুত্রের কিনারে ভাঙনের মুখে রয়েছে।

মরিয়ম বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাড়িতে আর থাকার উপায় নেই। কখন যে পুরো ভিটাটাই চলে যায় ঠিক নেই। এ কারণে বাড়ির অনেক কিছুই সরিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখেছি। কিন্তু কোথায় ঠিকানা হবে সেটা জানা নেই।’

বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের কড্ডার মোড় এলাকার চায়না বেগম ও আসাম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছরই শুনি সরকার নদী বেঁধে দেবে কিন্তু দেয় না। এখন বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় মানুষের জায়গায় আশ্রয় নিয়ে আছি। কোনো সাহায্য-সহযোগিতাও পাচ্ছি না।

বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শফিকুল ইসলাম বলেন, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অল্প সময়ের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী মোল্লারহাটসহ প্রায় তিন কিলোমিটারের বেশি এলাকার নদীগর্ভে চলে যাবে।

jagonews24

নদীভাঙনের হুমকিতে থাকা একাধিক পরিবার জানায়, ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এবার শেষ আশ্রয়টুকুও তাদের থাকবে না। সমস্যার সমাধানে নদীপাড়ে তারা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।

উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া বলেন, নদীর ভাঙন বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসক ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা চাই খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

মাসুদ রানা/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।