গ্রীষ্মেই ‘বর্ষার’ বৃষ্টিতে জনজীবনে দুর্ভোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৩:৪১ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২২
বৃষ্টিতে গামছা মাথায় কাজে যাচ্ছেন তিনি

বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস মিলে গ্রীষ্মকাল। এ সময় সূর্যের প্রচণ্ড তাপে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভূমি। শুকিয়ে যায় পানি। অনেক নদীই নাব্যতা হারায়। জলশূন্য মাটিতে ধরে ফাটল। কিন্তু আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে ঋতুতে এসেছে পরিবর্তন। ফলে বসন্ত থেকেই কুড়িগ্রামে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত।

আজ ৭ বৈশাখ হলেও চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে জেলায় বর্ষার রূপ নিয়েছে। কখনো হালকা থেকে মাঝারী, আবার কখনো ঝড়ো হাওয়াসহ হচ্ছে শিলাবৃষ্টি।

মধ্যরাত থেকে বুধবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে ৩৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এপ্রিল মাসজুড়ে জেলার স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ৯৪ মিলিমিটার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সেই মাত্রা ছাড়িয়ে ১ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ৪৩২ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৭৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবুর হোসেন।

jagonews24

এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বিপাকে পড়ছেন দিনমজুর, খেটে-খাওয়া ও নিম্নআয় ও ছিন্নমূল মানুষজন। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে পলিথিন মুড়িয়ে কিংবা ছাতা মাথায় দিয়ে চলতে দেখা গেছে।

বৃষ্টিতে ভিজে ঘোড়ার গাড়িতে লাকড়ি নিয়ে জেলা শহরের দিকে আসতে দেখা যায় জমশেদ মোল্লা (৫৮) ও তজিবর মিয়াকে (৫০)।

তারা জানান, বছরের এ সময় বেশি গরম থাকার কথা থাকলেও এবার ঘটছে উল্টো। অসময়ে হচ্ছে বৃষ্টিপাত। কখনো গুঁড়িগুঁড়ি আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। কিন্তু জীবিকার তাগিদে বৃষ্টিতে ভিজেই ঘোড়ার গাড়িতে মালামাল বহন করতে হচ্ছে। নয়তোবা পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে তাদের।

jagonews24

একই অবস্থা পাঁচগাছি ইউনিয়নের ছড়ার পাড় এলাকার মাঝি নারায়ন চন্দ্র ও বিমল রায়ের। তারাও গামছা ও ছাতা মাথায় দিয়ে মাছ বিক্রি করতে শহরের দিকে আসছিলেন।

নারায়ন চন্দ্র ও বিমল রায় জানান, বাজারে মাছ বিক্রি সকাল থেকেই শুরু হয়। সকাল পেরিয়ে গেলে ক্রেতা সংকট দেখা দেয়। সেই সঙ্গে মাছও পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বৃষ্টিতে ভিজেই তারা বাজারের দিকে রওনা দিয়েছে বলে জানান তারা।

আবহাওয়া কর্মকর্তা সবুর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণে বসন্ত থেকেই জেলায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। ঋতুর নিয়ম অনুযায়ী বৈশাখের শেষের দিকে কালবৈশাখী ঝড় হলেও এবার অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে গ্রীষ্মেই বর্ষার রূপ নিয়েছে। তবে, রংপুর বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারী, ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

মাসুদ রানা/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।