ফেনীতে ২৪ দিন পর কবর থেকে দিনমজুরের মরদেহ উত্তোলন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ১১:২২ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২২
ফেনিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন

ফেনীর পরশুরামে দাফনের ২৪ দিন পর আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য এক দিনমজুরের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিন আলমের উপস্থিতিতে ভারত সীমান্তবর্তী দক্ষিণ গুথুমা গ্রাম থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।

এর আগে গত ২৭ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাছ থেকে পড়ে নিহত হন দিনমজুর নুর মোহাম্মদ। তিনি পরশুরাম উপজেলার দক্ষিণ গুথুমা গ্রামের আমান উল্যাহর ছেলে।

মামলার এজহার, পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, ২৭ মার্চ সকালে ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ ধর্মপুর গ্রামে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী দুলালের গাছ কাটতে যান নুর মোহাম্মদ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনিসহ অপর দিনমজুররা গাছ কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় ব্যবসায়ী দুলাল ‌‘গাছ কাটতে এত সময় লাগছে কেন’ বলে হঠাৎ অর্ধকাটা গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা দড়ি টানতে থাকেন। এতে নুর মোহাম্মদ গাছ থেকে পড়ে মারাত্মক আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ মার্চ তার মৃত্যু হয়। ওই দিনই তকে

এ ঘটনায় ২৯ মার্চ নিহত নুর মোহাম্মদের স্ত্রীর বড় ভাই নুর হোসেন বাদী হয়ে ফেনীর আদালতে পরশুরামের মোহাম্মদপুর গ্রামের জলকু মজুমদারের ছেলে মো. দুলাল মিয়াকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে নুর মোহাম্মদের বাবা আমান উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, দুলালের সঙ্গে আমার ছেলের ঝগড়া হয়েছিল। এরই জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ মো. কায়কোবাদ জানান, আসামির স্বজনরা আলামত নষ্ট করার জন্য ময়নাতদন্ত না করেই নুর মোহাম্মদকে দাফন করেন। পরে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মঈন উদ্দিন জানান, আদালতের নির্দেশনার আলোকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নিহত নুর মোহাম্মদের মরদেহ কবর থেকে তোলার পর আবার দাফন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আসামি পলাতক রয়েছে।

নুর উল্লাহ কায়সার/ইএ

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।