শরীয়তপুরের মঙ্গলমাঝির ঘাটে আরেকটি ফেরিঘাট চালু
মঙ্গলমাঝি, সাত্তার মাদবর-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে শরীয়তপুরের জাজিরার মঙ্গল মাঝির (সাত্তার মাদবর) ঘাটে নতুন আরেকটি ফেরিঘাট চালু হয়েছে। বুধবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে নতুন ঘাটটিতে ফেরি নোঙর ও যানবাহন ওঠানামা শুরু হয়।
এরআগে সোমবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে ঘাটে যুক্ত করা হয়েছে পন্টুন। মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পরীক্ষামূলকভাবে কর্ণফুলী নামের একটি ছোট ফেরি শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসে জাজিরার মাঝির (সাত্তার মাদবর) নতুন ফেরিঘাটে।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যানজট কমাতে ঘাট এলাকায় আরেকটি ফেরিঘাট নির্মাণ করার কারণে জাজিরার মঙ্গল মাঝির (সাত্তার মাদবর) লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটটি আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটটি সরিয়ে নেওয়ায় যাত্রীদের ৪০০ মিটার হেঁটে যেতে হচ্ছে। তাই এই গরমে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
বিআইডব্লিটিএ শিমুলিয়া নদী বন্দরের নৌসংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের উপপরিচালক ওবায়দুল করিম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মঙ্গল মাঝির (সাত্তার মাদবর) নতুন ঘাটটির কাজ শুরু হয় ১৯ এপ্রিল। সাতদিনে ঘাটের কাজ শেষ হয়। নতুন ঘাটটির ফলে এখন মঙ্গলমাঝি ঘাটে একসঙ্গে তিনটি ফেরি নোঙর ও যাত্রী-যানবাহন ওঠানামা করতে পারবে। আগে ঘাটটিতে দুটি ফেরি নোঙরের সুযোগ ছিল। মাঝেমধ্যেই আবার একটি নোঙর করলে আরেকটি নোঙরের করার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এতে যানবাহনকে বেশি সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হতো। আসন্ন ঈদে যানবাহনের সংখ্যা বাড়বে। তাই নতুন ঘাট স্থাপন করা হয়েছে। নতুন ঘাটটিতে মিডিয়াম, কে-টাইপ ও ডাম্প ফেরি নোঙর করছে। ফলে ফেরি চলাচলে আরও গতি আসবে। ঘাটে যানবাহন নিয়ে যাত্রীদের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে না। এছাড়া এই রুটে দিনে-রাতে মোট ৮টি ফেরি চলাচল করছে। আরও দুটি ফেরি যুক্ত করার পরিকল্পনা চলছে।
ওবায়দুল করিম খান বলেন, পদ্মা সেতু এড়িয়ে শিমুলিয়া-মঙ্গল মাঝি (সাত্তার মাদবর) ও বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ২৪ ঘণ্টা ফেরি সচল থাকবে। বিভিন্ন প্রয়োজনের পাশাপাশি ঈদযাত্রায় ভোগান্তি এড়াতে অনেকে আগেভাগেই এ নৌরুট হয়ে গ্রামের পথে ছুটে আসছেন।
ঘাট এলাকার বাসিন্দা কাজি মো. বাচ্চু ও জামাল হোসেন ফকির বলেন, আগে একটি ফেরিঘাট ছিল। এতে আমাদের সড়কটিতে যানজট লেগেই থাকতো। নতুন আরেকটি ফেরি ঘাট হওয়ায় যানজট কমেছে। এতে যাত্রী, গাড়িচালক ও আমাদের জন্য ভালো হয়েছে।
এদিকে ফেরির পাশাপাশি মঙ্গল মাঝির (সাত্তার মাদবর) ঘাটে ২০টি লঞ্চ ও ২৩টি স্পিডবোট সচল রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া-জাজিরা নৌপথের শুল্ক আদায়কারী আবুল হাসান খায়ের বলেন, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যানজট কমাতে ঘাট এলাকায় আরেকটি ফেরি ঘাট নির্মাণ করার কারণে জাজিরার মঙ্গল মাঝির (সাত্তার মাদবর) লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটটি ৪০০ মিটার পূর্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথ দিয়ে শরীয়তপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন ফেরি পারাপার হয়। ওই নৌপথে ফেরি চলতে গিয়ে ২০২১ সালের ২০ জুলাই পদ্মা সেতুর একটি পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে রো রো ফেরির। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ফেরিগুলোর পদ্মা সেতুর সঙ্গে কয়েক দফা ধাক্কা লাগে। এমন পরিস্থিতিতে ১৮ আগস্ট থেকে ওই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তখন থেকে শরীয়তপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ চরম বিপাকে পড়েন। এরপর নদীর স্রোত কমে গেলে ওই নৌপথে দিনের বেলা স্বল্প পরিসরে ফেরি চলাচল শুরু হয়। জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় মঙ্গলমাঝির (সাত্তার মাদবর) ঘাট এলাকায় ২৫ আগস্ট নতুন করে একটি ফেরি ঘাট নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিটিএ। নাব্য সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ওই পথে ফেরি চালু করা যায়নি। ৮ ডিসেম্বর থেকে মঙ্গলমাঝির (সাত্তার মাদবর) ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল শুরু হয়।
ছগির হোসেন/এফএ/জেআইএম