এবার চরহাইজদা স্থায়ী বাঁধ কাটার অভিযোগ, হাওরে ঢুকছে পানি
এবার নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার চরহাইজদা স্থায়ী বেড়িবাঁধ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ডিঙ্গাপোতাসহ কয়েকটি হাওরে পানি ঢুকছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার গাগলাজুর এলাকায় জালালের কুড় এলাকায় স্থায়ী বাঁধটি ভেঙে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে চরহাইজদা স্থায়ী বেড়িবাঁধের জালালের কুড় এলাকা দিয়ে ডিঙ্গাপোতা হাওরে পানি ঢুকতে দেখেন স্থানীয়রা। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা বাঁধ কেটে দেওয়ায় জেলার অন্তত চার উপজেলার বিভিন্ন হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
কৃষিবিভাগ জানিয়েছে, হাওরে মাত্র আর পাঁচ ভাগ ফসল কাটার বাকি রয়েছে। এরমধ্যে মোহনগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওরের আড়াইশো হেক্টর জমির ফসল কাটা বাকি রয়েছে।
মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর এলাকার কয়েকজন কৃষক বলেন, দুই দফা পানি বেড়েছে। তখন বাঁধের কোনো সমস্যা হয়নি। এখন চার-পাঁচ হাত পানি কমে গেছে। পানির চাপ নেই। এখন বাঁধটি ভাঙ্গতে পারে না। এছাড়া এটি স্থায়ী শক্ত বাঁধ। এটি কেউ নিজেদের স্বার্থে কেটে দিতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহনলাল সৈকত জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় ৩৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোহনগঞ্জের চরহাইজদা এলাকায় ৪৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ৫ কিলোমিটার অংশে স্থায়ী বেড়িবাঁধ করা হয়। বাঁধটি পানির চাপে ভাঙার কথা না। কারণ, পানি কমে গেছে। এ মুহূর্তে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। স্থানীয়রা বলছেন বিলের মৎস্য সংরক্ষণের জন্য বাঁধটি কেটে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এটি এক ধরণের নাশকতা। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ দিচ্ছে। আর এটি কেটে দেবে। কৃষকের ক্ষতি করবে। তা হতে পারে না। বাঁধ কেটে দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে হাওরে এখন আর খুব বেশি ধান নেই। মাত্র পাঁচ ভাগ ধান রয়েছে।
এর আগে ২৬ এপ্রিল মধ্যরাতে জেলার খালিয়াজুরীতে নন্দন পেতনার বাঁধ কেটে জলাশয়ে পানি ঢুকানোর অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান হাকিম, মেন্দিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল করিমসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তবে এ মামলায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এইচ এম কামাল/এসজে/জেআইএম