শরীয়তপুরে ঈদের বেচাকেনায় সন্তুষ্ট দোকানিরা
ঈদুল ফিতরের বাকি আর চারদিন। এজন্য ঈদের কেনাকাটার চাপও বেড়েছে। শেষ মুহূর্তে ঈদের কেনাকাটায় জমে উঠেছে শরীয়তপুরের বিপণিবিতান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে।
ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে এসব দোকানে। বিক্রেতারা বলছেন, গরমে এবার সুতি পোশাকের সমারোহ বেশি। এসব দোকানে মেয়েদের জন্য রয়েছে সালোয়ার-কামিজসহ হরেক রকমের পোশাক। আর ছেলেদের জন্য রয়েছে জিন্স প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি ও গেঞ্জি। তাছাড়া জুতা ও কসমেটিকসের দোকানগুলোতেও ছিল ভিড়।

বিপণিবিতানগুলোতে ভারতীয় ও পাকিস্তানি নায়ক-নায়িকাদের নামে বিভিন্ন পোশাক শোভা পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ভাজা বাদাম, কাঁচা বাদাম, ভিনয়, ভিপুল, রেলেছা, বিবেক, জিসা, বিন হামিদ, নূরস, তাওয়াক্কেল, বিন সাঈদ, পুষ্পারাজ, সারারা, মারাঠা, মিঠাই, কুইন ফ্রক, গুজরাটি, গাড়ারা, লেহেঙ্গা ও পাকিস্তানি কুর্তি। আর ছেলেদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে শেরওয়ানি, পাকিস্তানি কাবুলি, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি। তবে ২৪ রোজা থেকে টেইলার্স ও ফেব্রিক্সের দোকানগুলোতে অর্ডার নেওয়া হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে শরীয়তপুর শহরের পালং বাজারের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। দোকানের বাহারি পোশাকের মধ্যে জর্জেট, পার্টি ড্রেস, গাউনের প্রতি মানুষের আকর্ষণ একটু বেশি। তবে প্রচণ্ড গরমে এবারের ঈদে ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে সুতি পোশাক।
শহরের আমিন টেইলার্স অ্যান্ড ফেব্রিক্সের স্বত্বাধিকারী নুরুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগের অর্ডারের জামা, প্যান্ট, শার্ট, ব্লেজার স্যুট ও পাঞ্জাবি নিতে দোকানে ভিড় বেড়েছে। এ বছর প্যান্ট ৪৭৫ টাকা, শার্ট ৩৭৫ টাকা, ব্লেজার স্যুট ৪ হাজার টাকা ও পাঞ্জাবির ৫০০ টাকা মজুরি ধরা হয়েছে। গতবছর করোনার কারণে তেমন অর্ডার পাইনি। এ বছর অর্ডার ভালোই ছিল।’

শরীয়তপুরের পালং বাজারের ইতি বস্ত্র বিতানের স্বত্বাধিকারী শেখ সাইফুল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘করোনার কারণে গত দুই বছর তেমন একটা ব্যবসা করতে পারিনি। তবে এবার আগেভাগেই ভারত, পাকিস্তান ও ঢাকার মালামাল দোকানে তুলেছি। প্রথম থেকেই বেচাকেনা ভালো। ১৫ রোজার পর দোকানে ক্রেতাদের প্রচণ্ড চাপ বেড়েছে। এবারের বেচাকেনায় আমরা সন্তুষ্ট।’
এবার গরমে ঈদ হওয়ায় ক্রেতাদের সুতি পোশাকের চাহিদা বেশি বলে জানালেন মিতালি ফ্যাশন হাউসের স্বত্বাধিকারী কাউসার আহম্মেদ সুমন।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা দোকানে পোশাক তুলেছি। এবার নতুন পোশাকের মধ্যে মেয়েদের সারার, গারারা আর ছেলেদের শার্ট, প্যান্ট ও গেঞ্জি বিক্রি বেশি হচ্ছে।’
মোহাম্মদ শাহিন ও বাচ্চু মিয়া নামের দুই ক্রেতা জানান, এবারের ঈদের বাজারে শিশুদের পোশাকের দাম সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি পোশাকের দাম আকাশছোঁয়া। গতবার যে পোশাক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় কিনেছিলেন এবার সেই পোশাক কিনতে হচ্ছে ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকায়।

পালং ইউনিয়নের কুরাশি এলাকা থেকে এসেছেন হাসি। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সস্তা হওয়ায় ভাগনির জন্য জামা-প্যান্ট কিনলাম। মধ্যবিত্ত হওয়ায় আমাদের ফুটপাতের দোকানই ভরসা।’
শরীয়তপুর সদরের ডোমসার থেকে আসা আমির হোসেন বলেন, ‘দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আমার পরিবার। সামনে ঈদ তাই সন্তানদের জন্য জামা, প্যান্ট কিনতে এসেছি।’
ছগির হোসেন/এসআর/জেআইএম