বেতন ছাড়াই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা দিচ্ছেন তারা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, ০৪ মে ২০২২
সিরাজগঞ্জে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের একটি স্কুল

সমাজের পিছিয়েপড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় অটিজম স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই স্কুলগুলোতে পড়াশোনা করে শারীরিক, মানসিক, বাকসহ নানা প্রকৃতির বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা।

বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জে মোট এনডিডি (নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিজ) ও নন-এনডিডি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় রয়েছে ৩৫টি। এই স্কুলগুলোতে জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের অবহেলিত প্রায় ৯ হাজার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু অধ্যয়ন করে। এদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন ৯৮০ শিক্ষক।

তবে স্কুলগুলোতে যেসব শিক্ষক পাঠদান করেন তাদের নেই কোনো বেতন-ভাতা। ২০০৯ সালের শেষের দিকে প্রতিষ্ঠা পাওয়া স্কুলগুলোর শিক্ষক-শিক্ষিকারা বেতন-ভাতা ছাড়াই মানবেতর জীবনযাপন করে নিয়মিত স্কুলের শিক্ষা দিয়ে আসছেন।

জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষক আরমিনা খাতুন বলেন, আমার স্কুলে শিক্ষার্থী ২০০ জন। কিন্তু আমরা যারা শিক্ষক রয়েছি তাদের কোনো বেতন বা ভাতা নেই। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমরা বিনা বেতনে ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দিচ্ছি।

Sirajganj-2.jpg

উল্লাপাড়া উপজেলার নন্দকোষা সমন্বিত প্রতিবন্ধী আদর্শ স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহানারা খাতুন বলেন, ২০০৯ সালে আমার স্কুলটি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এই স্কুলে ৪৪ জন শিক্ষক ২৬০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পড়ালেখা করিয়ে থাকেন। কিন্তু আমরা আজ পর্যন্ত কোনো বেতন বা ভাতা পাই না।

তিনি বলেন, স্বামীর পকেটের টাকায় রিকশা ভাড়া করে স্কুলে আসি আবার স্কুল শেষে বাসায় যাই তার টাকার ওপর নির্ভর করে। নিজে নামমাত্র চাকরি করি তাই অসুস্থ হলেও স্বামীকে বলতে সাহস পাই না চিকিৎসার কথা। জানি না এভাবে বেতন -ভাতার আশায় আর কতদিন পার করতে হবে।

বেলকুচি অটিজম স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন সাবেক বেলকুচি পৌরসভার মেয়র বেগম আশানূর বিশ্বাস। তিনি যখন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন আমরা পৌরসভা থেকে কিছু সম্মানী ভাতা পেতাম। কিন্তু নতুন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে প্রায় দুই বছর হলো তা বন্ধ রয়েছে। এখন আমাদের বেতন-ভাতা ছাড়াই খেয়ে না খেয়ে ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দিতে হচ্ছে। এখন যদি সরকার আমাদের দিকে সদয় হোন তাহলে আমাদের রক্ষা হবে। তাছাড়া তো বিকল্প কোনো ব্যবস্থা দেখছি না।

এদিকে, বেলকুচি পৌরসভার মেয়র সাজ্জাদূল হক রেজার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বেলকুচি প্রতিবন্ধী স্কুল নামে যে প্রতিষ্ঠান রয়েছে তা সাবেক মেয়র কীভাবে পরিচালনা করেছে তা আমার জানা নেই। কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের বেতন তো আমার পৌরসভা থেকে দিতে পারি না। যদি ওটা পৌরসভা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হতো তবে তা পৌরসভা দেখতো।

অটিজম স্কুলগুলোর শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে কথা হয় জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সরকারিভাবে ওনাদের জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকলে আসলেই আমাদের কিছু করার থাকে না। তবে যদি কোনো সরকারি সহায়তা বা বরাদ্দ আসে তবে এসব স্কুলের শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দিতে উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলে দেওয়া রয়েছে।

এমআরআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।