নড়িয়ার জয়বাংলা এভিনিউ এখন পর্যটকদের আরেক ঠিকানা
পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত শরীয়তপুরের নড়িয়ার পদ্মা পাড়ের ১০ কিলোমিটার পায়ে হাঁটা (ওয়াকওয়ে) পাকা সড়ক। যার নাম রাখা হয়েছে ‘জয়বাংলা এভিনিউ’। এটি এখন রূপ নিয়েছে ভ্রমণপ্রেমী মানুষের অনন্য ঠিকানায়। ‘জয়বাংলা এভিনিউ’ এখন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর। প্রতিদিনই শতাধিক মানুষ পরিবার নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন নড়িয়ার পদ্মা পাড়ে। পদ্মার পলি মিশ্রিত পানিতে সৈকতের বিনোদন পাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
শত বছরের পদ্মার ভয়াল ভাঙন রোধ করে পদ্মার ডান তীরের ১০ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধের ‘জয় বাংলা এভিনিউ নড়িয়া’ নামকরণ করে চলতি বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকেই প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। যা ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে বহুগুণ। প্রতিদিন শরীয়তপুর ও আশপাশের জেলার ভ্রমণপ্রেমী মানুষ এখানে সপরিবারে এসে ঘুরে ফিরে আনন্দে সময় কাটাচ্ছেন।
পদ্মাপাড়ে নতুন এই পর্যটন কেন্দ্রে বিভিন্ন ফাস্টফুডের দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকান থেকে সুলভ মূল্যে বাংলা ও চাইনিজ খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। ঈদের উৎসবে রঙিন হয়ে উঠেছে ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের মন। আনন্দের মাত্রা বাড়াতে ক্যামেরা ও মোবাইলে ছবি, সেলফি তুলে স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি করছেন প্রিয় মুহূর্তগুলো।

নিশিতা ইমরোজ, এনামুল কাজী, শিশু নিসু, খুসবু জাগো নিউজকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমরা জয় বাংলা এভিনিউতে ঘুরতে এসেছি। জায়গাটা অনেক সুন্দর। তাই ছবি ও সেলফি তুলছি। বিভিন্ন ধরনের খাবারও খেয়েছি।
নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলাম রাজীব জাগো নিউজকে বলেন, নড়িয়া তথা শরীয়তপুরে পর্যটন বা ঘোরার স্থান খুবই অপ্রতুল। নড়িয়ায় বেড়িবাঁধ ও ওয়াকওয়ে হওয়ায় এটি দর্শনীয় ও পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই ঘুরতে এসেছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জাগো নিউজকে জানান, পদ্মার ডান তীররক্ষা প্রকল্পের আওতায় ‘জয় বাংলা এভিনিউ’র কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। গত তিন বছরে নড়িয়ার পদ্মা পাড়ে একটি বাড়িও বর্ষায় ভাঙেনি। গত বছর থেকে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম মহোদয়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও সহায়তায় ‘জয় বাংলা এভিনিউ নড়িয়ার’ সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। এখানে সোডিয়াম বাতি, ঝাউ গাছ, ওয়াকওয়েতে টাইলস, নদী পাড়ের সিঁড়ি ভ্রমণ পিপাসুদের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সব মিলে তিন বছর আগের ভয়াল পদ্মা পাড় এখন আনন্দমুখর নতুন পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
নড়িয়ার কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিহীর চক্রবর্তী জাগো নিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা, দিক নির্দেশনা ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ কেএম এনামুল হক শামীমের একান্ত প্রচেষ্টায় প্রমত্ত পদ্মার ভাঙন রোধ করে স্থায়ীভাবে তীর সংরক্ষণের পাশাপাশি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে গড়ে তোলা হয়েছে ‘জয়বাংলা এভিনিউ’। ফলে এখন আর পদ্মা পাড়ে কান্নার শব্দ শোনা যায় না, শোনা যায় আনন্দ ধ্বনি।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পদ্মার ভাঙন রোধে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছেন বলেই আজ নড়িয়াকে নতুন পর্যটন এলাকায় পরিণত করা সম্ভব হয়েছে।
এ সময় উপমন্ত্রী শামীম সরকারের সব দফতরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এক হাজার সাতশ কোটি টাকা ব্যয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা-নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা প্রকল্পের আওতায় ১০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ করে ‘জয়বাংলা এভিনিউ’ নড়িয়া পর্যটন এলাকা করা হয়েছে।
ছগির হোসেন/এফএ/জেআইএম