এবার তিস্তা নদীতে ধরা পড়লো সাকার ফিশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০১:৫৬ এএম, ১৪ মে ২০২২

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় দেশের বৃহত্তম তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে জেলের জালে একটি সাকার ফিশ ধরা পড়েছে। তবে মাছটি আমাদের দেশীয় প্রজাতির জন্য ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানি কলনী গ্রামের জেলে আব্দুল জলিল মিয়ার (৫০) জালে মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি দেখতে তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় উৎসুক জনতা ভিড় করেন।

জানা গেছে. এটি একটি বিদেশি মাছ। এর ইংরেজি নাম ‘সাকার মাউথ ক্যাটফিশ’ হলেও বৈজ্ঞানিক নাম ‘হাইপোস্টমাস’। সাধারণত এই মাছগুলো মুখ দিয়ে চুষে খাবার খায়।

বিভিন্ন দেশে এই মাছ অ্যাকুরিয়ামে শোভাবর্ধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এরা পানির তলদেশে বাস করে এবং শেওলাজাতীয় উদ্ভিদ খায়। স্বভাবে শান্ত প্রকৃতির এই সাকার ফিশ মিঠা পানিতে বাস করে।

jagonews24

তিস্তাপাড়ের জেলে কদম আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাছটি আব্দুল জলিলের জালে উঠলে আমরা প্রথমে চিনতে পারিনি। পরে অনেকে বলছে এটি বিদেশি মাছ। মাছটি ওজন ৩০০ গ্রামের মতো।’

জেলে আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, ‘মাছটি দেখতে অনেকে ভিড় করেন। পরে আমি মাছটি বাড়িতে নিয়ে আসি।’

হাতীবান্ধা দোয়ানী পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, তিস্তা নদীতে ‘সাকার মাউথ ক্যাটফিশ’ নামের একটি মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়েছে।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বংশ বিস্তারকারী সাকার ফিশ জলজ পোকামাকড় ও শ্যাওলার পাশাপাশি ছোট মাছ এবং মাছের পোনা খেয়ে থাকে। তাছাড়া সাকার ফিশের পাখনা খুব ধারালো। ধারালো পাখনার আঘাতে সহজেই অন্য মাছের দেহে ক্ষত তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে পচন ধরে সেগুলো মারা যায়।

সাকার ফিশ রাক্ষুসে প্রজাতির না হলেও প্রচুর পরিমাণে খাবার ভক্ষণ করে। এতে দেশীয় প্রজাতির মাছের সঙ্গে খাদ্যের জোগান নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা হয়। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে বিলুপ্তির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের।

রবিউল হাসান/এসআর/জেডএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]