বোরো ক্ষেতে কোমরপানি, দিশেহারা কৃষক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ১২:৫৯ পিএম, ১৫ মে ২০২২

কুড়িগ্রামে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটার কাজ। সোনালি ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ঠিক এমন সময়ে টানা বৃষ্টির পানিতে বোরো ধান ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। জেলার নিম্নাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানের পাকা ও আধা পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাড়াহুড়ো করে কেটে তুলছেন তারা।

শনিবার (১৪ মে) দুপুরে সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক স্থানের পাকা ও আধা পাকা বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষকরা। শ্রমিক সংকটের কারণে নিরুপায় হয়ে পরিবারের ছোট বড় সবাই মিলে পানিতে নেমে বোরো ধান কাটছেন। পরে তা নৌকায় করে উঁচু স্থানে তুলছেন।

বোরো ক্ষেতে কোমরপানি, দিশেহারা কৃষক

এ সময় বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, অধিকাংশ বোরো ধান পেকেছে। তবে এখনও কিছু কিছু ক্ষেতের ধান আধা পাকা রয়েছে। পাকা ধান কাটতে অনেক কৃষক পরিবারই ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু টানা দুদিনের বৃষ্টিতে অনেকেরই পাকা ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে অনেকের মোট ফসলের তিন ভাগের এক ভাগ ক্ষতি হবে। আর যাদের আধা পাকা বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে তাদের মোট ফসলের অর্ধেক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

বোরো ক্ষেতে কোমরপানি, দিশেহারা কৃষক

সদর উপজেলার ছত্রপুর জেলে পাড়া এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের টাকায় সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ২৯-জাতের বোরো ধান আবাদ করেছি। ধান পাকার আগেই পুরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই সেই ক্ষেত থেকে পানি তুলছি।

বোরো ক্ষেতে কোমরপানি, দিশেহারা কৃষক

কুড়িগ্রামের পাঁচগাছি ইউনিয়নের মৌলভী পাড়ার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির পানিতে আমাদের দশ শতক জমির বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক না পাওয়ায় আমরা পরিবারের সবাই মিলে কষ্ট করে ধান কাটছি। তা না হলে পুরো ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

একই ইউনিয়নের ছড়ারপাড় এলাকার কৃষক রেজাউল করিমের ধান কাটতে আসা শ্রমিক আমজাদ হোসেন বলেন, কৃষক রেজাউল করিমের দুই বিঘা জমির বোরো ধানক্ষেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত অর্ধেক ক্ষেতের ধান কাটা হয়েছে। কিন্তু অর্ধেক ক্ষেত পানিতে তলিয়ে থাকায় ধান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বোরো ক্ষেতে কোমরপানি, দিশেহারা কৃষক

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবুর হোসেন বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলায় ১৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দু-একদিন ভারী বর্ষণ হতে পারে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুর রশীদ বলেন, দুই দিনের বৃষ্টিপাতে বোরো চাষিরা ধান কাটতে কিছুটা সমস্যার মুখে পড়ছেন। তবে ৭০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে আবাদে তেমন ক্ষতি হয়নি।

মাসুদ রানা/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]