সচ্ছলদের খাসজমি দেওয়া কাউখালীর ভূমি কর্মকর্তার পুরস্কার স্থগিত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পিরোজপুর
প্রকাশিত: ১১:০৮ এএম, ২৩ মে ২০২২
ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম

পিরোজপুরের কাউখালীতে সচ্ছলদের খাসজমি দেওয়ার অভিযোগে নজরুল ইসলাম নামের এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে তার শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার স্থগিত করেছে জেলা প্রশাসন।

রোববার (২২ মে) বিকেলে ভূমি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সচ্ছলদের খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. হুমায়ুন কবিরকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাউখালী উপজেলায় ১৩৭ জনকে খাসজমি বন্দোবস্তের অনুমোদন দেন। খাসজমি বন্দোবস্ত পাওয়া ১৩৭ জনের নামের তালিকা ঘেঁটে ২০ জন ব্যবসায়ী, ২৫ জন সচ্ছল ব্যক্তি, তিনজন প্রবাসী, পাঁচজন চাকরিজীবী ও তাদের স্ত্রীসহ মোট ৫৩ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা ভূমিহীন নন, বরং অনেকেই এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জমি ও সম্পদের মালিক বলে পরিচিত।

এদের মধ্যে উপজেলার সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের স্ত্রী সামসুন্নাহার হাসিও একজন। তিনি উজিয়ালখান গ্রামে ৫০ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত পান। এছাড়া সৌদিপ্রবাসী আবদুল মান্নান হাওলাদার ও তার স্ত্রী লাইলী বেগম চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া মৌজায় ১০ শতাংশ, আরেক সৌদিপ্রবাসী উত্তর নিলতী গ্রামের সোয়েবুর রহমান ১০ শতাংশ, চিরাপাড়া গ্রামের ১৫ বিঘা জমির মালিক জিয়াদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রিপা আক্তার ১০ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত পান।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. হুমায়ুন কবির জাগো নিউজকে বলেন, নজরুল ইসলাম জেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে কাউখালী উপজেলায় খাসজমি সচ্ছলদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়ায় ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কামরুন্নাহারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের আলোচনা সমালোচনা থাকায় তার নজরুল ইসলাম পুরস্কার স্থগিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার নম্বরে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]