পাবনায় হাটের টেন্ডার জমা দেওয়ায় জামায়াত নেতাকে মারধরের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৯:২০ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া

পাবনার চাটমোহরে হাটের টেন্ডার শিডিউল জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটলেও হামলাকারীদের প্রতিহত না করার অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

হামলাকারীদের মধ্যে মুলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি লিখন বিশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাবলু মিস্ত্রি, শাহীন আলম, সোহেল রানা, বিএনপি নেতা জাবের মোল্লা, জিয়া মুন্সী, রিন্টু, যুবদল নেতা শাহীন, ছাত্রদল নেতা ইমনসহ শতাধিক নেতাকর্মী জড়িত বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের ডাকা হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। বিকেল ৩টায় টেন্ডার বাক্স খোলার নির্ধারিত সময় ছিল। দুপুরে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আওরঙ্গজেব তার নিজ এলাকার একটি হাটের টেন্ডার শিডিউল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে রাখা বাক্সে ফেলেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসময় আশপাশে থাকা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গিয়ে তার ওপর হামলা করেন। এসময় সেখানে থাকা আনসার সদস্য ও পুলিশ প্রথমে তাদের নিবৃত করে নিচে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর কিছু সময় পর ইউএনও অফিস থেকে নিজের ব্যক্তিগত কাজ শেষে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান বের হতে গেলে তখন তার ওপরও হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় সেখানে উপস্থিত আনসার ও পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেননি বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান বলেন, ‌‘আমার এলাকার একটি সমস্যা নিয়ে ইউএনওর কাছে এসেছিলাম। ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারির টেন্ডার জমা দেওয়ার বিষয়ে আমি তেমন কিছুই জানতাম না। এর সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। অথচ ইউএনও অফিস থেকে বের হতেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উপস্থিত সবাই আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।’

তিনি আরও বেলেন, স্থানীয় এমপি ও উপজেলা জামায়াতের আমিরকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্তদের একজন মুলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি লিখন বিশ্বাস বলেন, ‘শিডিউল জমা দেওয়ার শেষ সময় জানার জন্য আমরা কয়েকজন সেখানে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি দলের ছেলেপেলেদের সঙ্গে ঝামেলা। কার সঙ্গে কী নিয়ে ঝামেলা তাও জানতাম না। পরে শুনেছি। হামলার সঙ্গে আমি জড়িত নই। মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, ‌‘টেন্ডার জমা ও বাক্স খোলাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। তারপরও কীভাবে ঘটনা ঘটলো সেটি আমি বলতে পারছি না। থানার ওসি ভালো বলতে পারবেন।’

‘পুলিশের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সঠিক নয়’ জানিয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার বলেন, ব্যাপক মারধর বা সংঘর্ষের মতো তেমন কিছু ঘটেনি। হাটের শিডিউল জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি এবং ধাক্কাধাক্কির মতো ছোট ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ তার সঠিক ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলমগীর হোসাইন নাবিল/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।