ফরিদপুর পলিটেকনিক থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার সেই ছাত্র লাইফ সাপোর্টে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১১:১৯ পিএম, ২৭ মে ২০২২
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গোপাল রায় রাজেশ, পাশে রাজেশের ফাইল ছবি

ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার আবাসিক শিক্ষার্থী গোপাল রায় রাজেশ (১৯) এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৩ মে রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজেশকে উদ্ধার করে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

রাজেশ গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়ি গ্রামের প্রণয় রায়ের ছেলে। তিনি
ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

এদিকে ঘটনার পর রাজেশ আম পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। কিন্তু তার বাবা প্রণয় রায়ের অভিযোগ, র‌্যাগিংয়ের জেরে ছেলেকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় বৃহস্পতিবার (২৬ মে) লিখিত অভিযোগ করা হয়।

এ অবস্থায় ঘটনার পরের দিন ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে করা হয় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। তাদের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজেশের বাবা প্রণয় রায় জাগো নিউজকে বলেন, আমার ছেলে ২৩ মে রাত সাড়ে ১১টায় কলেজের হোস্টেলে অবস্থানের সময় মাথায়, হাত ও বুকে আঘাত পায়। পরে তার কয়েক সহপাঠী উদ্ধার করে তাকে প্রথমে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজেশের মাথায়, হাতে, কানের পাশে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া হাতের কবজি দেওয়া হয়েছে ভেঙে। রাজেসকে পরিকল্পিতভাবে পেটানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পলিটেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আলী শেখ জাগো নিউজকে বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি ছেলেটি ক্যাম্পাসের একটি আম গাছ থেকে পড়ে আহত হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা বিষয়টি তদন্তে কমিটি করেছি।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সূত্র ধরে জেলা পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত চলছে ঘটনার।

এন কে বি নয়ন/জেডএইচ/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]