হিলির ছোট বন্দরে বড় যানজট

মাহাবুর রহমান মাহাবুর রহমান , হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:০৮ এএম, ২৮ মে ২০২২
ট্রাকগুলো সড়কে দাঁড়িয়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রী ও পথচারীদের

দিনাজপুর জেলার সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত হিলি স্থলবন্দর। প্রতিদিন বন্দর থেকে গড়ে ১ হাজারেরও বেশি ট্রাক বিভিন্ন পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকগুলোর পানামা পোর্টের ভেতরে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা থাকলেও বাইরের আড়তগুলোতে ট্রাক রাখার তেমন ব্যবস্থা নেই। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা, ছোট যানসহ পথচারীদের।

হিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের দুটো রাস্তা। রাস্তার উত্তরে চাল এবং দক্ষিণে সবজি বাজার। এছাড়াও সড়কের পাশে আছে বিভিন্ন পণ্যের এবং বড় বড় মুদির দোকান। ওই দোকানগুলোতে প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয় বেচাকেনা। দোকানগুলোতে সকাল হলেই আসতে শুরু করে তেলের লরিসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক। বাজারের ছোট রাস্তার পুরোটাই থাকে ট্রাকের দখলে। এই রাস্তাটি হিলি বাজারের প্রধান রাস্তা এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদেরও যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় বাজার করতে আসা পথচারীদের।

হাটের দিনসহ বাজারের দিনেও এই সড়কের দুইপাশে বসে ছোট সবজির দোকান। পণ্যবাহী ট্রাকগুলো দাঁড়িয়ে থাকায় তাদেরও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হয়। সড়কটিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট থাকে। যানজটে ক্ষুব্ধ বাজারের ব্যবসায়ীরা।

hili1

ভ্যানচালক আজমত আলী জাগো নিউজকে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। পেটের দায়ে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। এমনিতেই কামাই রোজগার কম, তার উপর আবার বাজারে রাস্তায় সব সময় যানজট।

তিনি বলেন, বাজারের দোকানে মালামাল নামানোর জন্য সারাদিন ট্রাক এসে রাস্তা দখল করে রাখে। আমাদের ছোট গাড়িতো দূরের কথা অনেক সময় মানুষও হেঁটে যেতে পারে না। সামান্য রাস্তা পার হতে অনেক সময় লাগে। এই রাস্তা ছাড়া বাজারের বাইরে যাওয়ার অন্য কোনো রাস্তা না থাকায় আমরা বড় বিপদে আছি।

দক্ষিণে রাস্তার পাশের সবজি ব্যবসায়ী সোহেল রানা জাগো নিউজকে বলেন, আমরা ছোট ব্যবসায়ী, ব্যবসা করে খাই। কিন্তু রাস্তার ওপর রাত-দিন বড় বড় ট্রাক দখল করে বসে থাকে, আমাদের অনেক অসুবিধা হয়। অনেকবার বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

কয়েকজন পথচারী বলেন, হিলি বাজার থেকে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করছে, কিন্তু বাজারের রাস্তাগুলো একেবারেই ছোট। একটি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকলে অন্য যানবাহন যেতে বেশ কষ্ট হয়। বাজারের ভেতরে যানজটের কারণে সবার চলাচলে সমস্যা হয়।

hili1

হিলি বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরমান আলী জাগো নিউজকে বলেন, বাজারে ট্রাক লোড-আনলোডের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। আমরা সীদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাজারে কোনো ট্রাক প্রবেশ করবে না এবং লোড-আনলোডও করতে পারবে না। কিন্তু কে শোনে কার কথা? বাজারের সভাপতি নিজ ইচ্ছামতো কাজ করে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জানতে চাইলে হাকিমপুর পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, হিলি স্থলবন্দর জায়গাটি ছোট্ট একটি শহর। রাস্তাগুলো ছোট। এখানে পণ্যবাহী গাড়িগুলো লোড-আনলোড হয়। তাতে যানজটের সৃষ্টি হয়। মাসিক সভায় বাজার মনিটরিং কমিটিকে বিষয়টি অবগত করবো এবং বাজারের যানজট নিরসনের ব্যবস্থা নেবো।

যানজটের বিষয়ে হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নুর-এ-আলম জাগো নিউজকে বলেন, বাজারের যানজট নিরসনের জন্য এর আগেও ফজলুর রহমানের দোকানে জরিমানা করা হয়েছিলো এবং সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিলো। মানুষের সুবিধার্থে আবারও এসব পণ্যবাহী ট্রাক লোড-আনলোডের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]