ফরিদপুরের দুই উপজেলায় ১৪ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪:৫৭ এএম, ২৯ মে ২০২২

ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ১৪টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ১৭টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে বোয়ালমারী পৌর সদরেই ১১টির মধ্যে ৭টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নেই। উপজেলার মাত্র ৫টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ লাইসেন্স থাকলেও, তাও আবার নবায়ন করা নেই।

অপরদিকে, উপজেলায় ১২টি ক্লিনিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনলাইনে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ব্যবসা। বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালেদুর রহমান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারিয়া হক অভিযানে নেমে কাগজপত্র না থাকায় পৌর শহরে অবস্থিত ১১টির মধ্যে সাতটি ক্লিনিকই বন্ধ করে দিয়েছেন।

শনিবার (২৮ মে) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুটি উপজেলায় পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করে এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হয়।

দুই উপজেলার মধ্যে বোয়ালমারীর স্বর্ণা সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আলনূর চক্ষু জেনারেল হাসপাতাল, সেতু সার্জিক্যাল ক্লিনিক, মর্ডান লেবরটারি, নূরজাহান ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সেবা সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড জননী ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

এ সময় ওয়াপদা মোড়ে অবস্থিত সেবা সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড জননী ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫ হাজার টাকা, মডার্ন লেবরেটরিকে ৫ হাজার টাকা ও আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, মধুখালীতে বাবু মেমোরিয়াল হাসপাতাল, ঢাকা ডিজিটাল ল্যাব, সানজিদা ক্লিনিক, সুমি ক্লিনিক, একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডায়াবেটিক সমিতি, মঈন ফেকো চক্ষু হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারিয়া হক জাগো নিউজকে বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক সুপারভিশন ও মনিটরিংয়ের বিষয়ে ২৫ মে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভার কার্যবিবরণী মোতাবেক পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া যেসব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক নিবন্ধন আছে কিন্তু নবায়ন করেনি তাদের নির্দিষ্ট সময় দিতে হবে এবং লাইসেন্স প্রাপ্তির আগে প্রতিষ্ঠানিক কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালেদুর রহমান বলেন, পৌর সদরের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। লাইসেন্স না থাকায় অভিযানের সংবাদ পেয়ে কয়েকটি লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকেরা বন্ধ করে পালিয়ে যান।

এ ব্যাপারে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. কবির সরদার বলেন, জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মধুখালী পৌর সদরের ৭ টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক শনিবার প্রথম দিনে সারাদিন ব্যাপী জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। প্রথম দিনে ১৪টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এন কে বি নয়ন/এমএএইচ/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]