‘বেওয়ারিশ’ সেতুটির খবর নেই কারো কাছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১০:২৪ এএম, ২৯ মে ২০২২

অডিও শুনুন

ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে সংযোগ সড়কবিহীন পড়ে রয়েছে ছোট্ট একটি ব্রিজ। যা মানুষের কোনো কাজেই আসছে না। ফরিদপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ব্রিজটি নির্মাণ করলেও এর সঠিক তথ্য-উপাত্তও কারো কাছে নেই। এক প্রকার বেওয়ারিশ হয়েই পড়ে আছে ব্রিজটি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ছোট-খাট জংলা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, মধুখালী পৌরসভার আঁখচাষিদের সুবিধার জন্য ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আসামিপাড়া ও বনমালিদিয়া দুটি গ্রামের সংযোগ হিসেবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। মধুখালী চিনিকলের নিজস্ব অর্থায়নে চিনিকল কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা ছাড়াই নির্মাণ করে ব্রিজটি। কিন্তু দুঃখের বিষয় দীর্ঘ এতো বছরেও দুই গ্রাম থেকে কোনো সংযোগ সড়ক এখনও যুক্ত হয়নি। যার কারণে দুই গ্রামবাসী ব্রিজটি ব্যবহারও করতে পারছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকায় ব্রিজে জংলা সৃষ্টি হয়েছে। কলা গাছ, আগাছা জমেছে। দূর থেকে মনেই হয় না এখানে কোনো স্থাপনা রয়েছে।

farid3

এলাকাবাসীর দাবি, ব্রিজটিতে সংযোগ সড়ক তৈরি করে জনগণের চলার উপযোগী করে তোলা হোক। এতে স্কুল, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ কয়েক হাজার মানুষ ব্রিজটি ব্যবহার করতে পারবেন। তাদের যাতায়াত সহজ হবে, সময়ও বাঁচবে।

এ ব্যাপারে মধুখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মোশাররফ হোসেন মুসা জাগো নিউজকে বলেন, আঁখচাষিদের সুবিধার জন্য নিজস্ব অর্থায়নে মধুখালী চিনিকল কর্তৃপক্ষ ব্রিজটি নির্মাণ করে। এর দুপাশে কোনো সরকারি জমি না থাকায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অপরিকল্পিতভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ব্রিজ না কালভার্ট তাও ভালো বোঝার উপায় নেই। বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়রের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর চিনিকলের শ্রমজীবী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কাজল বসু জাগো নিউজকে বলেন, ব্রিজটি প্রায় ২০ থেকে ৩০ বছর আগে করা। এখন এটা পুরোপুরি পরিত্যক্ত একটি ব্রিজ। এটা মানুষের কোনো কাজে আসে না। আর প্রয়োজনও নেই। তবে অনেক আগের এতো সব বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

farid3

মধুখালী পৌর মেয়র খন্দকার মোরশেদ রহমান লিমন জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগের ব্রিজ। এ সম্পর্কে খোঁজ খবর, তথ্য উপাত্ত না জেনে কিছু বলা সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিকুর রহমান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। রাস্তা তৈরি না করে কেন ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে তাও জানা নেই। এটি যেহেতু পৌরসভার অভ্যন্তরে, এর দেখভালের দায়িত্ব মেয়রের।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খবির উদ্দিন মোল্যা জাগো নিউজকে বলেন, আমি অফিসের বাহিরে আছি। একটি সেমিনারে আছি। ব্রিজটি অনেক পুরাতন, যে কারণে এর বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত দেখে শুনে বলতে হবে।

এন কে বি নয়ন/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]