ঘরে ঝুলছিল মায়ের মরদেহ, বিছানায় কাঁদছিল মেয়ে
বগুড়ার ধুনটে নিজের ঘর থেকে শাপলা খাতুন (১৯) নামের এক সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শাপলা খাতুন উপজেলার পারধুনট গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুরে স্বামীর বাড়ির নিজের ঘর থেকে শাপলার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এর আগে ভোর ৫টার দিকে ঘরের ভেতর তীরের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় মরদেহ দেখে থানায় খবর দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পারধুনট গ্রামের আলমগীর হোসেন প্রায় দুই বছর আগে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কুইন্দা বাজার এলাকার আব্দুল হান্নানের মেয়ে শাপলা খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর জীবিকার তাগিদে আলমগীর হোসেন ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। সেখানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন আলমগীর। স্ত্রী শাপলা খাতুন সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে এক বছর ধরে তাদের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের লোকজনের। পরে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে গলায় ওড়না পেঁচানো শাপলার মরদেহ দেখতে পান। পাশের বিছানায় শাপলার অবুঝ শিশুটি হাতা-পা নেড়ে অবিরাম কান্না করছে।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্দু বালা বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অস্বাভাবিক (ইউডি) মৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ মৃত্যুর বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই। ময়নাতদন্তের জন্য শাপলার মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আরএইচ/জিকেএস