ট্রাকবোঝাই সয়াবিন নিয়ে উধাও চালক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ০২ জুন ২০২২
চালক সোহেল রানা

বরিশালের মুলাদী বন্দরের এক ব্যবসায়ীর ১১ লাখ টাকার সয়াবিন নিয়ে উধাও সোহেল রানা নামের এক ট্রাকচালক। বুধবার (১ জুন) সন্ধ্যা থেকে সয়াবিনবোঝাই ট্রাক ও চালকের সন্ধান মিলছে না।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত চালক ও ট্রাকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সয়াবিনের মালিক ও মুলাদী বন্দরের ব্যবসায়ী ফরিদ আকন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সয়াবিনসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের পাইকারি ব্যবসা করে আসছেন। লক্ষ্মীপুর জেলার বিসিক শিল্প নগরী চৌধুরীর অটো রাইচ মিলের মালিক মাঈনুদ্দিন চৌধুরী সয়াবিনের চাহিদার কথা জানান। এরপর স্থানীয় বিভিন্ন হাট থেকে তিনি ৪৫২ মণ সয়াবিন কিনে ট্রলারে করে প্রথমে চাঁদপুরে সাকিব ট্রান্সপোর্টের মালিক দেলোয়ার হোসেনের কাছে পাঠান।

দেলোয়ার হোসেন বুধবার ওই সয়াবিন গ্রহণ করেন এবং ট্রাকে করে লক্ষ্মীপুর পাঠানোর দায়িত্ব নেন। এরপর দুপুর ১টার দিকে ট্রাকে তুলে দেওয়ার দাবি করেন ট্রান্সপোর্ট মালিক দেলোয়ার। ওই ট্রাকের চালক ছিলেন সোহেল রানা।

ব্যবসায়ী ফরিদ আকন আরও বলেন, বিকেলের মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলার বিসিক শিল্প নগরী চৌধুরীর অটো রাইচ মিলে সয়াবিন পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ট্রাকচালক সোহেল রানা পৌঁছে দেননি। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ট্রান্সপোর্ট মালিক দেলোয়ার হোসেন জানান, ট্রাকচালকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাচ্ছেন। পরে দেলোয়ার হোসেন চাঁদপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

‘তবে দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন ওই ট্রাক তার ট্রান্সপোর্টের নয়। তিনি মালিক ও চালককে সেভাবে চেনেন না। ওই ট্রাকে ১১ লাখ টাকার সয়াবিন ছিল। একজন অপরিচিত ট্রাকচালকের কাছে এতগুলো টাকার সয়াবিন দেওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। ট্রান্সপোর্ট মালিক ও ট্রাক চালক সয়াবিন আত্মসাতের চেষ্টায় এ নাটক সাজিয়ে থাকতে পারেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাকিব ট্রান্সপোর্টের মালিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, বুধবার ফরিদ আকনের পাঠানো সয়াবিন তিনি পেয়েছেন। ওইদিন দুপুর ১টার দিকে ট্রলার থেকে সয়াবিন ট্রাকে ওঠানো হয়। বিকেলের মধ্যে ট্রাকচালকের গন্তব্যে পৌঁছার কথা। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ট্রাকচালক সোহেল রানার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি রায়পুরা এলাকা পার হয়েছেন বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘এর কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়ে ট্রাকচালক কিংবা ট্রাক মালিকের সন্ধান না পেয়ে জিডি করেছি।’

এ বিষয়ে চাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘বিভিন্ন থানায় এ বিষয়ে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে খবর পেয়েছি নোয়াখালীর চর জব্বর থানা পুলিশ একটি ট্রাক আটক করেছে। তবে এখনো নিশ্চিত নয় সেটিই সয়াবিনবোঝাই নিখোজ ট্রাক কি না। সেখানে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।’

সাইফ আমীন/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।