চাঁদাবাজির অভিযোগে ৪ জনকে গণপিটুনি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ১২:১৯ পিএম, ১০ জুন ২০২২
সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া চারজনকে আটক করেন স্থানীয়রা

যশোরের বাঘারপাড়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে চারজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।

বৃহস্পতিবার উপজেলার খাজুরা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত লাল রঙের প্রাইভেটকার, মোবাইল, ক্যামেরা, পরিচয়পত্র ও অ্যাসাইমেন্টের কপি জব্দ করে পুলিশ।

গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিরা হলেন- মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া গ্রামের হিরণ শেখের ছেলে নুরুদ্দিন (২৮), একই উপজেলা কলসেরকান্দি গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৫), রাজধানীর বংশালের আগামাছি লেনের মঞ্জুর হোসেনের ছেলে এস.এম. শাহজাহান (৪২) ও যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া মেঠোপাড়া গ্রামের কিসমত দফাদারের মেয়ে রাজিয়া সুলতানা ডলি (২৮)।

ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্তরা খাজুরা বাজারের আশার আলো সমবায় সমিতিতে গিয়ে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেন। তারা বলেন, ‘আমরা ঢাকা অফিস থেকে অডিটে এসেছি। সমিতির কাগজপত্র বের করেন যাচাই-বাছাই করবো।’ এ সময় ওই সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ও অফিস অডিটের অনুমতিপত্র দেখাতে বললে তারা ঘাবড়ে যান। সন্দেহ হলে সমিতির নির্বাহী পরিচালক ও সভাপতি খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেন।

jagonews24

পুলিশ আসার আগে স্থানীয় জনতা অভিযুক্তদের গণপিটুনি দেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ওই চারজনকে আটক করে পুলিশ। এর আগে বুধবার স্বপ্নের সেতু, সাহসী ও খাজুরা সমবায় সমিতিতে গিয়ে তারা সংবাদ প্রকাশ ও লাইসেন্স বাতিলের ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

আশার আলো সমবায় সমিতির নির্বাহী পরিচালক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘অফিসে এসে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করি। তাৎক্ষণিক আমি সমিতির সভাপতি সাইফুজ্জামান চৌধুরী ভোলাকে ফোন করে ডাকি। এ সময় তারা অফিস অডিটের (অ্যাসাইমেন্ট কপি) একটি ভুয়া অনুমতিপত্র দেখায় আমাদের। কথাবার্তার এক পর্যায়ে তারা সবাই ঘাবড়ে গেলে আমরা পুলিশকে খবর দিই।’

স্বপ্নের সেতু সমবায় সমিতির নির্বাহী পরিচালক উজ্জ্বল নন্দী অভিযোগ করে বলেন, ‘বুধবার সকালে তারা অফিসে এসে খাতাপত্র দেখে বলে, অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। এ সময় সমিতির লাইসেন্স বাতিলের ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা নেয় তারা।’

এছাড়া, এদিন একই কৌশলে অভিযুক্তরা সাহসী সমবায় সমিতি থেকে ২০ হাজার টাকা ও খাজুরা সমবায় সমিতি থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাঘারপাড়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রশিক্ষণের জন্য বাইরে ছিলাম। মঙ্গলবার বিকেলে অফিসে এসে কয়েক ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে উপজেলার সমিতির তালিকা চায়। এ সময় অফিসের স্টাফদের কাছ থেকে তালিকা নিয়ে তারা চলে যায়। পরে জানতে পারি ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তারা বিভিন্ন সমিতিতে চাঁদাবাজি করছে।’

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, আটকদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তারা প্রকৃত সাংবাদিক কি না তাও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিলন রহমান/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।