গ্লাসে ফেনসিডিল ঢেলে দিচ্ছেন স্ত্রী, টাকা হাতে ইউপি মেম্বার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০৮:০৯ পিএম, ১৩ জুন ২০২২

ইউপি মেম্বারের বাড়িতে মাদকের আসর। ক্রেতার গ্লাসে ফেনসিডিল ঢেলে দিচ্ছেন মেম্বারের স্ত্রী। টাকা নিয়ে দেনদরবারও চলছে। এমনই একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই ইউপি মেম্বারের নাম বাদশা মিয়া। তিনি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত। তিনি উপজেলার মালগাড়া গ্রামের মৃত ফজলের রহমানের ছেলে।

রোববার (১২ জুন) রাতে ইউপি মেম্বারের স্ত্রীর গ্লাসে ফেনসিডিল ঢেলে দেওয়ার ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এ ঘটনায় বাদশা মিয়ার ছেলে শাহিন আলমকে (১৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসূল জাগো নিউজকে জানান, ইউপি মেম্বারের স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে (৩৫) এক বাড়িতে ঘিরে রাখা হয়েছে। নারী পুলিশ দিয়ে রাতেই গ্রেফতার করা হবে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ইউপি মেম্বারের স্ত্রী স্বপ্না বেগম ২০ টাকা কম পাওয়ায় এক ব্যক্তির সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তখন ওই ব্যক্তি বলেন, এখানে প্রশাসন আসে না? স্বপ্না বেগম বলেন, এটা মেম্বারের বাড়ি। এখানে প্রশাসন ক্ষমতা রাখে না। ম্যাজিস্ট্রেট হলে সমস্যা থাকে।

স্বপ্না বেগমকে আরও বলতে শোনা যায়, আজ দাম বাড়ানোর জন্য ৫০০ মাল ফেরত দিয়েছি। যেখানে কম পাবেন, সেখানে গিয়ে খান। এখানে আসছেন কেন? ইনটেক খান, খোলা খাবেন কেন? তখন ওই ব্যক্তি বলেন, সবসময় ইউপি মেম্বারের বাড়িতে আসি। এখানে নিরাপত্তা বেশি। সেজন্য আসি। এটাকে দুর্বল ভাবেন কেন?

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ফেনসিডিলের টাকা সরাসরি ইউপি মেম্বার বাদশা মিয়ার হাতে দেওয়ার সময় তার স্ত্রীর খারাপ আচরণের বর্ণনা দেন এক ওই ক্রেতা, যা শুনে বাদশা তার স্ত্রীকে শাসন করেন। বলেন, ২০ টাকার জন্য তোকে এ কথা বলতে হবে কেন?

স্থানীয়রা জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়ন সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসায় জড়িত বাদশা মিয়া। এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে গোড়ল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর ফের মাদক ব্যবসা শুরু করেন। রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানের লোকজন বাদশার বাড়িতে ফেনসিডিল খেতে আসেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক প্রতিবেশী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউপি মেম্বার বাদশা মাদক ব্যবসা করে আসছেন। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ কিছু বলেন না। বললে মামলা-হামলার ভয় দেখান। এমনকি বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও তার সখ্য রয়েছে। প্রতিদিন বিকেল হলেই দামি গাড়িতে করে অনেকেই তার বাড়িতে আসেন মদপান করতে।

এসব বিষয়ে জানতে গোড়ল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার বাদশা মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

গোড়ল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওই ইউপি মেম্বার নির্বাচনের আগে মাদক মামলায় স্ত্রীসহ কারাগারে গিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কি না তা আমার জানা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে এই ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলে আমি জেনেছি। এ ঘটনায় আজ সোমবার তার ছেলেকে পুলিশ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়।’

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম গোলাম রসুল জাগো নিউজকে বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা যত বড় হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় ইউপি মেম্বারের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

রবিউল হাসান/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।