বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঘোষিত চেয়ারম্যান নির্বাচনে পরাজিত
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঘোষিত শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হারুন-অর-রশিদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। স্বতন্ত্রপ্রার্থী আনারস প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস ছালাম হাওলাদারের কাছে ২৪৬ ভোটে পরাজিত হন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সকালে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে আব্দুস ছালাম হাওলাদার পেয়েছেন চার হাজার ২৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হারুন-অর-রশিদ পেয়েছেন চার হাজার ৫১ ভোট। ইউনিয়নে ১১ হাজার ৮৮০ ভোটার থাকলেও ৮ হাজার ৬০৫ ভোট কাস্ট হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর ওই ইউনিয়নে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে কোনো প্রার্থী না থাকায় রিটানিং কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করেন। মেম্বার পদে ৬০ প্রার্থীর মধ্যে ৪৮ জনের স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন তিনি। কিন্তু প্রতীক বরাদ্দের সময় ২০ প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার বিষয়টি অস্বীকার করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে ওই ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করে।
১৫ জুন চিতলিয়া ইউনিয়নে পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় প্রতীক ছাড়া এ নির্বাচনে পরাজিত হন হারুন-অর-রশিদ।
চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বিজয়ী চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম হাওলাদার বলেন, আল্লাহ চাইলে কেউ তাকে পরাজিত করতে পারে না। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জোর করে চেয়ারম্যান হতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেননি। ভোটাররা আমাকে বিজয়ী করেছেন। আমি ইউনিয়নবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই।
এদিকে পরাজিত প্রার্থী হারুন-অর-রশিদ বলেন, ইভিএমে না নিয়ে ব্যালটে নির্বাচন দিলে আমার বিজয় নিশ্চিত ছিল। এ ইউনিয়নের ভোটাররা ইভিএম বোঝেন না। এ সুযোগে পোলিং এজেন্ট ও দায়িত্বরত কর্মকর্তারা আমার প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমাকে পরাজিত করেন।
অন্যদিকে জাজিরা উপজেলার কুণ্ডেরচরে মো. আক্তার হোসেন ব্যাপারী (মোটরসাইকেল), বি কে নগরে আলহাজ্ব এসকান্দার আলী ভূঁইয়া (মোটরসাইকেল), বড় গোপালপুরে মাহবুবুর রহমান লিটু সরদার (আনারস), পালেরচরে মো. আবুল হোসেন ফরাজী (চশমা), পূর্ব নাওডোবায় মো. আলতাফ হোসেন খান (টেবিল ফ্যান) ও বিলাসপুরে মো. কুদ্দুস ব্যাপারী (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
মো. ছগির হোসেন/আরএইচ/জিকেএস