৩ বান্ধবীর মোবাইলে প্রেম : পরিণতি ধর্ষণ


প্রকাশিত: ০২:৫৯ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০১৬

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের কলেজপাড়া এলাকার কিশোরী তিন বান্ধবী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মোবাইলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গার্মেন্টস কর্মী রাজিব, আবু বক্কর ও মিজানুর রহমান তিন কিশোরীকে ডেকে মাধবের চরে নিয়ে যায়। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

এ ব্যাপারে ধর্ষিতার বাবা এমদাদুল হক বাদী হয়ে রাজিবপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। সোমবার বিকেলে কুড়িগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ধর্ষিতাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
     
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতাউর রহমান জানান, রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের কলেজপাড়া এলাকার ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া এক কিশোরীর সঙ্গে চিলমারী উপজেলার কড়াই বরিশাল গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে আবু বক্করের সঙ্গে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই যুবক ঢাকায় গার্মেন্টেসে কাজ করে। প্রায় এক বছর পূর্বে বান্ধবীর বিয়েতে পরিচয়ের সূত্র ধরে এ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর আবু বক্কর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করার সুবাদে সখ্যতা তৈরি হয় ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার গহরবাজাই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে রাজিব মিয়া (২৫) ও রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রহমতপুর গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মিজানুর রহমানের (২৪) সঙ্গে। তারা তিনজন বন্ধু। পরে আবু বক্করের সহযোগিতায় তার গার্ল ফ্রেন্ডের দুই বান্ধবীর সঙ্গে রাজিব ও মিজানুরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মোবইলে। এ সম্পর্কের দাবি নিয়ে ৩ বন্ধু শুক্রবার ঢাকা থেকে রাজিবপুরে আসে। বিকেলে তিন কিশোরীকে মোবাইলে ডেকে নেয় রাজিবপুর বটতলা এলাকায়। প্রেমের টানে ৩ কিশোরী বাড়িতে কিছু না জানিয়ে হাজির হয়। এরপর তিন যুবক তাদের ফুসলিয়ে নিয়ে যায় নির্জন মাধবের চরে। সন্ধ্যা নামলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিশোরীদের ধর্ষণ করে তারা। রাতের গাড়িতে ঢাকায় নিয়ে যাবে এ স্বপ্ন দেখিয়ে ৩ যুবক পালিয়ে যায়। অসহায় হয়ে ৩ কিশোরী রাজিবপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু প্রতারক তিন যুবকের আর দেখা মেলে না। পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি করে পুলিশকে খবর দেয়। রাত ১০টার দিকে পুলিশ ৩ কিশোরীকে উদ্ধার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে পুলিশ ঢাকা পালিয়ে যাবার পথে বাস থেকে গ্রেফতার করে ধর্ষক মিজানুর, রাজিব ও আবু বক্করকে।

এ ব্যাপারে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছে।

সোমবার অভিযুক্ত ৩ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। আর ধর্ষণের শিকার ৩ কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভর্তি করা হয় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে। সোমবার তাদের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন শেষে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।    

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নজরুল ইসলাম কিশোরীদের ধর্ষণের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চলতি মাসে ধর্ষণের শিকার হয়ে ১৫ জন শিশু ও কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হয়।

নাজমুল হোসেন/ এমএএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :