নেত্রকোনায় ভেসে গেছে সাড়ে ১১ কোটি টাকার মাছ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ পিএম, ২২ জুন ২০২২

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার ৭৫ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে অন্তত সাড়ে ২৬ হাজার পুকুরের মাছ। এতে প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ২৬ হাজার ৪১৭টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এর মধ্যে নেত্রকোনা সদরের এক হাজার ৪৬৮ জন খামারির তিন হাজার ২৫০ পুকুরের মাছ, মোহনগঞ্জের এক হাজার ৭২৩ জনের এক হাজার ৭২৩ পুকুর, বারহাট্টার এক হাজার ৭২২ জনের তিন হাজার ৬৮৭ পুকুর, কেন্দুয়ার এক হাজার ১৬০ জনের দুই ২৩৫ পুকুর, আটপাড়ার ৯৩৫ জনের এক হাজার ৬৭০ পুকুর, পূর্বধলার ৬৮৫ জনের ৭৬৪ পুকুর, মদনের এক হাজার ৫৫২ জনের চার হাজার ২৪৫ পুকুর, খালিয়াজুরীর ৩৯১ জনের ৪১৪ পুকুর, কলমাকান্দার দুই হাজার ৩৪০ জনের তিন হাজার ১১২ পুকুর ও দুর্গাপুর উপজেলার তিন ৮৫০ জন খামারির পাঁচ হাজার পুকুর তলিয়ে গেছে।

জেলা মৎস্য বিভাগ আরও জানায়, তিন হাজার ৫৩৮ হেক্টর জমিতে ২৬ হাজার ৪১৭ পুকুরে ১৫ হাজার ৮২৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ কোটি ৫৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।

বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামের ফিসারি মালিক মোহাম্মাদ আলী বলেন, আমার পাঁচটা ফিসারির অন্তত ৮০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। চোখের সামনে সব মাছ ভেসে গেলেও কিছুই করার ছিল না। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। ঋণ করে মাছ চাষ করেছি এখন কী করব ভেবে পাচ্ছি না।

কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের নক্তিপাড়া গ্রামের সালাম মিয়া, হাফানিয়া গ্রামের মানিক তালুকদার বলেন, দশটি ফিসারি রাতারাতি তলিয়ে গেছে। অন্তত ৪০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মাদ শাহজাহান কবীর বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এইচ এম কামাল/আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]