সিরাজগঞ্জে কমছে যমুনার পানি, গো-খাদ্যের সংকট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০১:২৭ পিএম, ২৩ জুন ২০২২
পানিতে তলিয়ে আছে কাসা ঘাস

সিরাজগঞ্জে দুই সপ্তাহ পর কমতে শুরু করেছে যমুনা নদীর পানি। তবে এখনো যমুনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পানিবন্দি রয়েছেন নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রামের মানুষ। এসব গ্রাসে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারিরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় পানি পরিমাপক হাসানুর রহমান বলেন, জেলার কাজিপুর মেঘাই পয়েন্টে পানি ৬ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ডপয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

jagonews24

জেলার শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের খামারি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় আমরা নেপিয়ার ঘাস আবাদ করে গরুকে খাওয়াই। কিন্তু জমি তলিয়ে থাকায় এখন কেনা খাদ্য গরুকে খাওয়ানো ছাড়া উপায় নেই।’

আরেক খামারি আবুল কালাম বলেন, ‘গরুকে সবুজ ঘাস খাওয়ালে বেশি দুধ হতো। বৃষ্টি ও বর্ষার পানি আসায় মাঠ তলিয়ে গেছে। যার কারণে আমাদের খামারের গরুকে খড়, ভুসি, খৈল, সয়াবিনসহ দানাদার খাবার দিতে হচ্ছে। ঘাস না খাওয়ার কারণে দুধ হচ্ছে কম।’

শাহজাদপুর রাউতারা গ্রামের মামুন মোল্লা বলেন, ‘আমাদের রাউতারা স্লুইসগেট সংলগ্ন রিং বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে ফসলের মাঠ ও গো-চারণ ভূমি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ঘাসের জমি ডুবে যাওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা হয়েছে। মাঠে থাকা নেপিয়ার ঘাসের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গ্রামের কাঁচা রাস্তা বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে।’

jagonews24

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, শাহজাদপুর উপজেলায় ৭ হাজার গবাদি খামার রয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৭০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। আর মাত্র কয়েকদিন পরই পশু বিক্রি শুরু হবে। এ অবস্থায় কাঁচা ঘাসের অভাব খামারিদের মহাবিপদে ফেলেছে।

জেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ কুমার বলেন, জেলায় ৯ লাখ গরু, সাড়ে ৩ লাখ ছাগল ও ২ লাখ ভেড়া রয়েছে। গত কয়েকদিন পানি বাড়ায় গোচারণ ভূমি বন্যা কবলিত হওয়ায় কৃষক ও খামারিদের ঘাসের অভাব দেখা দিয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা আমাকে জানিয়েছে। সরকারি কোনো সহযোগিতা পেলে কৃষক ও খামারিদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]