পদ্মাপাড়ে সাজসাজ রব, নিরাপত্তা জোরদার

আরাফাত রায়হান সাকিব আরাফাত রায়হান সাকিব , মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০১:৪৫ পিএম, ২৪ জুন ২০২২

অডিও শুনুন

সমানে ছিল বহু বাঁধা, নানামুখী চ্যালেঞ্জ আর জল্পনা-কল্পনা। তবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন থেকে দৃশ্যমান, যান চলাচলের উপযোগী স্বপ্নের পদ্মা সেতু রাতের অন্ধকার বেধ করে এখন আলোকিত। উদ্বোধনের অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। রাত পোহালেই উদ্বোধন হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর। ঘটবে পদ্মা পাড়ি দিতে যুগ-যুগান্তের ভোগান্তির অবসান।

পদ্মা সেতু নির্মাণে অন্যতম সাক্ষী মুন্সিগঞ্জের মাওয়া পদ্মাপাড়। তাই সেতুর উদ্বোধনের আগ মুহূর্তে মাওয়া এলাকায় আনন্দে উদ্ভাসিত পদ্মাপাড়ের মানুষ। সর্বত্র সাজসাজ রব।

jagonews24

সেতুর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন ও সুধী সমাবেশ হবে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া পদ্মা পাড়ে। প্রস্তুত ফলক মঞ্চ। সমাবেশে আমন্ত্রণ পাচ্ছেন ৩ হাজার সুধীজন। এ তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিসভার সদস্য, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক, নির্মাণ সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, দেশের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকরা।

সরজমিনে দেখা যায়, অনুষ্ঠানস্থল, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে সাজসজ্জায় ভরে উঠেছে। এক্সপ্রেসওয়ে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন। পদ্মা সেতুর নির্মাণ করায় স্থানীয় নেতাকর্মীরাও টানিয়েছেন ফেস্টুন। সমাবেশস্থলের দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ তৈরিসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার কাজ শেষের পথে।

jagonews24

এছাড়া সেতুর নামফলক ও ম্যুরাল স্থাপনের কাজ প্রায় শেষের পর্যায়ে। অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও চলছে পুরোদমে।

এরই মধ্যে পুরো মাওয়া এলাকায় জোরদার করা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়। পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কাজ করছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, নৌ পুলিশ সবাই একযোগে মোতায়েন রয়েছে। বিভিন্ন পেট্রোলিং ছাড়াও আকাশপথে থাকবে র‍্যাবের হেলিকপ্টারের নজরদারি।

jagonews24

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে সবাই জানান উচ্ছ্বাসের কথা। মুন্সিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রাসেল মাহমুদ জানান, বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে। চারদিকে উৎসবের আমেজ। অপেক্ষা শুধু কালকের দিনের জন্য।

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, কখনো ভাবেননি এ নদীতে সেতু হবে। কত কষ্ট করে পার হতো মানুষ। আজকের পর আর থাকবে না কোনো কষ্ট। খুব ভালো লাগছে।

jagonews24

২০০১ সালের ৪ জুলাই পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের নভেম্বরে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাসের এ সেতুর ওপরের স্তরে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে একটি একক রেলপথ রয়েছে।

পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৪২টি পিলার ও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে মূল অবকাঠামো তৈরি হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮ মিটার।

jagonews24

পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট খরচ হয় ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। এসব খরচের মধ্যে রয়েছে সেতুর অবকাঠামো তৈরি, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ, বেতন-ভাতা ইত্যাদি।

বাংলাদেশের অর্থ বিভাগের সঙ্গে সেতু বিভাগের চুক্তি অনুযায়ী, সেতু নির্মাণে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দেয় সরকার। ১ শতাংশ সুদ হারে ৩৫ বছরের মধ্যে সেটি পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার কাঠামো নির্মাণের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।

আরাফাত রায়হান সাকিব/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]