শিক্ষিকার ধাক্কায় দরজায় লেগে কপাল ফাটলো শিক্ষার্থীর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৯:৩৩ পিএম, ২৭ জুন ২০২২

পাবনায় শিক্ষিকার থাপ্পড় ও ঘাড় ধাক্কা খেয়ে শ্রেণিকক্ষের দরজার চৌকাঠে লেগে কপাল ফেটে গেছে শুভ হোসেন (১০) নামের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর।

রোববার (২৬ জুন) দুপুরে চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শুভ উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের কাটেঙ্গা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। অভিযুক্ত শিক্ষিকার নাম তৌহিদা পারভীন।

এ ঘটনায় সোমবার (২৭ জুন) অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনা খতিয়ে দেখতে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

বিদ্যালয় ও আহত শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে প্রথম শিফটের (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) শিক্ষার্থীদের ক্লাস শেষে ছুটি দেওয়ার পর দরজার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সহকারী শিক্ষিকা তৌহিদা পারভীন। এ সময় প্রথম শিফটের শিক্ষার্থীরা বের হতে থাকে আর দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষার্থীরা (তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি) ঢুকতে থাকে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভেতরে ঢুকতে গিয়ে স্বভাবসুলভভাবে তাড়াহুড়ো করতে থাকে। এ সময় পেছন থেকে শিক্ষার্থীদের ধাক্কায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শুভ হোসেনের সঙ্গে সহকারী শিক্ষিকা তৌহিদা পারভীনের শরীরে ধাক্কা লাগে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সহকারী শিক্ষিকা। তিনি ওই ছাত্রকে থাপ্পড় মারেন ও ঘাড় ধরে ধাক্কা দেন। এতে শ্রেণিকক্ষের দরজার চৌকাঠের ওপর পড়ে কপাল ফেটে যায় শুভর।

পরে তাকে অন্যান্য শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। ক্লাস করতে না পেরে শুভ ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়ে তার বাবা-মাকে ঘটনা খুলে বলে। এ ঘটনার পরে শুভর বাবাসহ আত্মীয়-স্বজন বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি কামরুজ্জামান সোমবার সকালে এ বিষয়ে ছাত্রের অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানান। কিন্তু সোমবার বিদ্যালয় চলাকালীন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিচার চেয়ে হইচই করতে থাকেন। ফলে এসএমসির সভাপতিসহ সদস্যরা আর বৈঠক করেননি।

শুভর বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি সোমবারই বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষক এমন আচরণ করতে পারেন না। তিনি বিধি মোতাবেক ওই শিক্ষিকার শাস্তি চান।

ওই ছাত্রকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান সহকারী শিক্ষিকা তৌহিদা পারভীন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা তাড়াহুড়ো করে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার সময় শুভ তার গায়ের ওপর এসে পড়ে। এ সময় তিনি দরজার সঙ্গে ধাক্কা খান। আর চৌকাঠের সঙ্গে লেগে শুভর কপাল ফেটে যায়। তারপরও অভিভাবকরা স্কুলে আসার পর ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু তারা এরপরও শান্ত হননি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আলীম বলেন, তিনি (সহকারী শিক্ষিকা তৌহিদা পারভীন) ইচ্ছে করে কিছু করেননি। অভিভাবকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু অভিভাবকরা তাদের কথা মানেননি।

চতুর্থ শ্রেণির কয়েক ছাত্র বলে, ‘ওই সময় তাড়াহুড়ো করে শ্রেণিকক্ষে ঢোকার সময় পেছন থেকে ধাক্কা খেয়ে শুভ ছুটে গিয়ে তৌহিদা ম্যাডামের শরীরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। তখনই ম্যাডাম শুভকে থাপ্পড় মারেন ও গলা ধরে ধাক্কা দেন। দরজার চৌকাঠের সঙ্গে লেগে শুভর কপাল ফেটে যায়।’

এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছি। সরেজমিনে স্কুল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈকত ইসলাম সোমবার সন্ধ্যায় জাগো নিউজকে বলেন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিন ইসলাম জুয়েল/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]