সুদিনের আশায় রাজারহাটের চামড়া ব্যবসায়ীরা

মিলন রহমান মিলন রহমান , জেলা প্রতিনিধি, যশোর যশোর
প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ২৮ জুন ২০২২

করোনার কারণে দুই বছর মন্দার পর এবার কোরবানি ঈদে যশোরের রাজারহাটের চামড়া বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বকেয়া আদায় না হওয়া, পশুর দাম বেশি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কোরবানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের প্রায় ১০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী বকেয়া আদায় না হলে কোরবানির চামড়া কিনতে নগদ টাকা সংকটে পড়তে হবে। এছাড়া এবার পশুর দামও তুলনামূলক বেশি। বিপরীতে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতির কারণে পশু কোরবানির পরিমাণও কমতে পারে। সেক্ষেত্রে চামড়ার আমদানিও কমবে। এসব বিষয়ে চিন্তিত। তবে করোনার দুই বছর পর এবার স্বাভাবিক পরিবেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে বিধায় চামড়া বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশায় বুক বাধছেন তারা।

যশোরের রাজারহাট দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম চামড়ার মোকাম। এই চামড়া হাটকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার ছোট-বড় ব্যবসায়ী রয়েছেন। ঈদ-পরবর্তী হাটেই অন্তত ১০ কোটি টাকার চামড়ার ব্যবসা হয়। খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ঝালকাঠি, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী ও নাটোরের বড় ব্যবসায়ীরা এখানে চামড়া বেচাকেনা করেন।

সাধারণত কোরবানি পরবর্তী হাটবারে রাজারহাটে লক্ষাধিক চমড়া বেচাকেনা হয়। কিন্তু গত দুই বছর করোনা ও লকডাউনের প্রভাবে ব্যবসায় মন্দা ছিল। এর বাইরে গত কয়েক বছরে চামড়ার বাজারের দরপতনও ছিল লক্ষ্যণীয়। সঙ্গে রয়েছে ট্যানারি মালিকদের কাছে থাকা বকেয়া টাকা আদায় না হওয়ার চাপও।

রাজারহাটের চামড়া ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া টাকা আদায় হয়নি অনেকের। রয়েছে অব্যাহত লোকসানের চাপ। যে কারণে মূলধন সংকট রয়েছে অনেক ব্যবসায়ীর।

Jashore-razarhat-leather-hat-pic-02

তাদের দাবি, ট্যানারি মালিকদের কাছে যশোরের ব্যবসায়ীদের অন্তত ১০ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে। সরকারের ঋণ সুবিধাও মিলছে না। ফলে ব্যবসায়ীরা কোরবানি পরবর্তী হাটে চামড়া কেনার নগদ টাকার বিকল্প সন্ধানে রয়েছেন। যে যার মতো নগদ টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করছেন।

বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার কেবল একজন ট্যানারি মালিকের কাছেই রাজারহাটের কয়েকজন ব্যবসায়ীর পাওনা প্রায় পাঁচ কোটি। এর বাইরে রাজারহাটের মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও অনেক ট্যানারি মালিক ও আড়তদারের কাছে বকেয়া পাওনা রয়েছেন।

এ বিষয়ে বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল জাগো নিউজকে বলেন, কোরবানি ঈদ পরবর্তী হাটে লক্ষাধিক চমড়া বেচাকেনার মধ্য দিয়ে অন্তত ১০ কোটি টাকা হাতবদল হয়। তবে এ হাটের অনেক ব্যবসায়ীর মূলধন ট্যানারি মালিকদের কাছে আটকা রয়েছে। গত কয়েক বছরের লোকসান ও বকেয়া আদায় না হওয়ায় চামড়ার ব্যবসা নিয়ে অনেকে চিন্তিত। তবে দুই বছর পর স্বাভাবিক পরিবেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে যাওয়ায় চামড়া বেচাকেনার জন্য নগদ টাকা সংগ্রহসহ অন্যান্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজারহাট চামড়া বাজারের সাবেক ইজারাদার চামড়া ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামান হাসু জাগো নিউজকে বলেন, চামড়ার দাম এখন মোটামুটি ভালো। এরপরও চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করা হবে সে অনুযায়ী বেচাকেনা হবে। ব্যবসায়ীরাও সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের উপকরণের দাম অনেক বেড়েছে। আবার চীনে লকডাউন এবং রপ্তানিতে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এ কারণে ট্যানারি মালিকরা কী পরিমাণ চামড়া কিনবেন এবং কীভাবে কিনবেন সেসব নিয়েও তারা ভাবছেন।

এসআর/এএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]