নওগাঁয় গবাদিপশুর দাম নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৭:৪৭ পিএম, ২৮ জুন ২০২২

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ভালো দামের আশায় গবাদিপশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর খামারিরা। তবে এবছর পশু-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গবাদিপশু লালনপালনে তুলনামূলক খরচ পড়ছে বেশি। কোরবানির হাটে পশু বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখা নিয়ে চিন্তিত খামারিরা।

খামারিরা বলছেন- ব্যবসায়ীরা এখনো গরু কেনা শুরু না করায় প্রতিদিনই তাদের বাড়তি খরচ হচ্ছে। তবে বাড়তি খরচে গবাদিপশু লালনপালন করায় বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন কি না তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা। এছাড়া দেশীয় খামারিদের বাঁচাতে অবৈধপথে ভারত থেকে যাতে পশু না আসতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে- জেলায় ছোটবড় মিলিয়ে ২০ হাজার ৪০২টি খামার রয়েছে। যেখানে এবছর কোরবানি উপলক্ষে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩টি গবাদিপশু লালনপালন করা হয়েছে। এরমধ্যে ষাঁড় ৬৭ হাজার ৮১০টি, বলদ ২৪ হাজার ৬৪৪টি, গাভী ৪৬ হাজার ২৫৭ টি ও মহিষ ১ হাজার ৪৮৮টি। এছাড়া ছাগল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬২৯টি এবং ভেড়া ৩৫ হাজার ৯৭৫টি। জেলায় কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার।

Naogaon-3

কয়দিন বাদেই কোরবানির ঈদ। জেলার খামারগুলোতে লাভের আশায় দেশীয়, অস্ট্রেলিয়ান ও সিন্ধি জাতের গরু লালনপালন করা হয়েছে। দানাদার খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবছর পশুপালন করতে গিয়ে খামারিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এক্ষেত্রে আবার বড় খামারিরাই বেশি চিন্তিত। কারণ, বিক্রির সময় প্রত্যাশিত মূল্য না পেলে পশুপালনে আগ্রহ হারাবেন তারা। অন্যদিকে, যারা বাড়িতে কয়েকটি গরু পালন করেছেন তাদের চিন্তা কিছুটা কম। তারা মাঠে ছেড়ে দিয়ে পালন করায় খাবারের খরচ কম পড়েছে। এতে বাজারে তুলনামূলক কম দামে পশু বিক্রি করতে পারেন তারা।

নওগাঁ সদর উপজেলার ইকতাড়া গ্রামের খামারি আসিফ ইকবাল রাজু। গত আট মাস ধরে তার খামারে ১৬টি দেশীয় ষাঁড় প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে খাস, খড় ও দানাদার খাবার দিয়ে লালনপালন করছেন। তিনি বলেন, সেসময় প্রতিটি গরু ৭০-৯০ হাজার টাকা কিনেছি। আট মাস লালনপালন করে মোটাতাজা করা হয়েছে। এখন প্রতিটি গরুর দাম প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা এমনকী তারও বেশি হবে। গরুগুলোকে খড় ও কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর পাশাপাশি দানাদার খাবার খাওয়ানো হয়।

তিনি বলেন, আগে প্রতি সপ্তাহে ১০ হাজার টাকার খাবার কিনতে হতো। এখন সেই খাবার কিনতে হচ্ছে ১৭ হাজার টাকায়। হঠাৎ করে পশু খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতি সপ্তাহে সাত হাজার টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। বাড়তি খরচে গবাদিপশু লালনপালন করায় বেশি দামে বিক্রি করতে পারবো কি না তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি।

আরেক খামারি নুরুল হক সাজু। তিনি ব্যবসার পাশাপাশি গরুর খামার করেছেন। তিনি বলেন, ১০ বছর থেকে গরুর খামার করছি। প্রতিবছর খাবারে ১০-১৫টি গরু লালনপালন করা হয়। আর আমাদের গরু হাটে নিয়ে বিক্রি করার প্রয়োজন হয় না। ঈদের ২০-২৫ দিন আগে ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করে কিনে নিয়ে যায়। তবে এ বছর তার ব্যতিক্রম। এখনো কোনো ব্যবসায়ী গরু কেনার জন্য যোগাযোগ করেনি। গরু বিক্রি না হওয়ায় দিনে গরুপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে।

Naogaon-3

তিনি দাবি করেন, খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার মতো অনেক খামারি বিপাকে পড়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাবে। দেশীয় খামারিদের বাঁচাতে ভারতীয় গরু যাতে ঢুকতে না পারে সে দাবি করেন তিনি।

সদর উপজেলার নিন্দইন গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, বাড়িতে দুটি ষাঁড় গরু আছে। বাড়ির খাবার দিয়েই লালনপালন করা হয়েছে। দানাদার খাবার কেনার তেমন দরকার হয়নি। বড় গরুর দাম ৯০ হাজার ও ছোটটার দাম ৬০ হাজার টাকা বলেছে ব্যবসায়ীরা। তবে আরেকটু দাম পাওয়ার আশায় বিক্রি করছি না।

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মহির উদ্দিন বলেন, জেলায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গবাদিপশু রয়েছে। দেশের সব জেলায় সমহারে পশু উৎপাদন না হওয়ায় উদ্বৃত্ত পশু ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করবেন। যেহেতু পশুখাদ্যের দাম বেশি, খরচ কমাতে খামারিদের খাস খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খামারিরা যে স্বপ্ন নিয়ে পশুপালন করেছেন, আশা করা যায় তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হবে।

তিনি বলেন, জেলায় স্থায়ীভাবে ২৮টি পশুর হাট রয়েছে। এছাড়া কোরবানি উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে আরও হাট বসবে। প্রতিটি পশুর হাটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসক থাকবেন। ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের সুবিধার্থে হাটে ৩-১০ জনের চিকিৎসকের একটি টিম কাজ করবে। গতবছর প্রায় ৩ লাখ ৯৩ হাজারের অধিক পশু কোরবানি হয়েছে।

আব্বাস আলী/এমআরআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]