ভাঙ্গা গোল চত্বরে সেলফি তোলার হিড়িক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১২:৪৮ পিএম, ২৯ জুন ২০২২

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রথম দিন থেকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা গোল চত্বরে সেলফি তোলার হিড়িক পড়েছে। এক্সপ্রেসওয়েটিতে বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল থামিয়ে মোবাইল ক্যামেরায় সেলফি তোলার দৃশ্য নতুন নয়। কিন্তু ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রথম দিন থেকে এর পরিমাণ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা সেতু দেখতে আসা-যাওয়ার পথে বেশিরভাগ মানুষ গাড়ি থামিয়ে একক ও দলবদ্ধভাবে ছবি তুলছেন। বাস-ট্রাক, পিক-আপ, মোটরসাইকেল থামিয়েও যাত্রীদের নেমে ছবি তুলতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমার নদের তীরে অবস্থিত ফরিদপুরের একটি উপজেলা ভাঙ্গা। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গার মোড়ে এসেই আপাতত থেমেছে দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে। পদ্মা সেতু আর এক্সপ্রেসওয়ের কল্যাণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় এই প্রবেশদ্বার পেয়েছে দৃষ্টিনন্দন রূপ। ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা গোল চত্বর পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হলেও এর পুরো সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার পর।

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সময় নতুন রূপে গড়ে তোলা হয়েছে ভাঙ্গার এ গোলচত্বরকে। ঢাকা থেকে সড়কপথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলায় পৌঁছাতেও ভাঙ্গার গোলচত্বর হয়ে যেতে হয়।

ভাঙ্গা গোল চত্বরে সেলফি তোলার হিড়িক

ভাঙ্গার গোল চত্বর হয়ে সহজে যাওয়া যায় ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, ভোলা, গোপালগঞ্জ, নড়াইল, মাগুরা, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর প্রভৃতি জেলা সদরে।

ভাঙ্গার এই গোল চত্বর হয়ে যে কোনো দিকে যেতে কোনো গাড়িকে ট্রাফিক সিগন্যালের অপেক্ষা করতে হবে না। ভিন্ন ভিন্ন লেইন ধরে নির্বিঘ্নে গাড়িগুলো চলে যেতে পারবে যার যার গন্তব্যে। তবে কোনো গাড়ি লেন ভুল করলে তাকে ঘুরতে হবে কমপক্ষে দশ কিলোমিটার।

শরীয়তপুরের মোল্লার হাট থেকে মোটরসাইকেলে করে ৮ বন্ধু এসেছেন পদ্মা সেতু দেখতে। সেতু দেখে ফেরার পথে ভাঙ্গা গোল চত্বরে দাঁড়িয়ে ছবি, সেলফি তুলতে দেখা যায় তাদের।

ভাঙ্গা গোল চত্বরে সেলফি তোলার হিড়িক

আল-আমিন, জাহিদ, শাহিন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা বন্ধুরা মিলে মোটরসাইকেলে করে আসছি আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখতে। পদ্মা সেতু দেখে ফেরার পথে ভাঙ্গা গোল চত্বরে দাঁড়িয়ে আরেকটি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করলাম। পদ্মা সেতুর পাশাপাশি এটাও অনেক সুন্দর লাগছে। আমরা ঘুরেফিরে দেখলাম। উপভোগ করলাম। সেলফি তুললাম, ভিডিও করলাম। বেশ ভালো লাগলো।

সাদিয়া পারভিন, পপি সুলতানা নামে দুই তরুণী জাগো নিউজকে বলেন, পরিবারের সঙ্গে পদ্মা সেতু দেখতে এসেছিলাম। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে (ভাঙ্গা গোল চত্বর) দাঁড়িয়ে ছবি, সেলফি তুলেছি। এ জায়গাটাও চমৎকার। মনে হয় না এটা বাংলাদেশ। এর আগে টিভি-চ্যানেল ও ইন্টারনেটে দেখেছি। স্বচক্ষে দেখে আরো বেশি ভালো লাগলো। স্মৃতি ধরে রাখতে সেলফি তুলেছি।

ভাঙ্গা গোল চত্বরে সেলফি তোলার হিড়িক

যশোর নাভারন থেকে রিজার্ভ বাস নিয়ে আগত বাসের চালক শরীফ জাগো নিউজকে বলেন, যাত্রীরা পদ্মা সেতু দেখে ফেরার পথে ভাঙ্গা গোল চত্বরে দাঁড়িয়ে ছবি-সেলফি তুলছে। দশ মিনিটের কথা বলে আধা ঘণ্টা সময় হলেও ছবি তোলা শেষ হচ্ছে না।

ভাঙ্গা গোল চত্বরের পাশের বাসিন্দা ও ভাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মান্নান জাগো নিউজকে বলেন,পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ছবি-সেলফি তোলার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্তের আগতরা পদ্মা সেতু দেখতে আসা-যাওয়ার পথে ভাঙ্গা গোল চত্বরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ভুল করছেন না।

এন কে বি নয়ন/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]