মাটি কেটেও পাওনা না পাওয়ার অভিযোগ ৭০ শ্রমিকের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০:০৮ পিএম, ৩০ জুন ২০২২

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থানের কর্মসূচিতে মাটি কেটেও মজুরি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন দিনমজুররা।

বুধবার (২৯ জুন) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এ অভিযোগ করেন নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৭০ জন শ্রমিক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থানের কর্মসূচির আওতায় নারায়ণপুর ইউনিয়নে ২৫৬ জন দিনমজুর রয়েছেন। তারা এর আগে ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ শেষ করেছেন। এ সময় হাতেগোনা কয়েকজন বাদে প্রায় সবাই তাদের মজুরি পেয়েছেন। কিন্তু মাসখানেক আগে অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থানের কর্মসূচির আওতায় ২০ দিনের কাজ শেষ করলেও মজুরি পাননি ৭০ জন শ্রমিক।

নারায়ণপুর ইউনিয়নের সাতরশিয়া গ্রামের দুরুল হোদার ছেলে আহাদুল ইসলাম (৩০) বলেন, ‘এর আগে ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ করে প্রাপ্য ১৬ হাজার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পেয়েছি। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে ৪০ দিন মাটি তোলার কাজ করেছিলাম। দ্বিতীয় দফায় গত ১৪ মে থেকে ২০ দিনের কাজ সম্পন্ন করেছি। কিন্তু এবার টাকা আসেনি। নিয়ম মেনে রাস্তায় মাটি উঠানোর কাজ করলেও টাকা পাইনি।’

একই ইউনিয়নের মৃত খসরুল মোহাম্মদের ছেলে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা সবাই আগেরবার ৪০ দিনের ১৬ হাজার টাকা পেয়েছি। শুধু কয়েকজন দিনমজুর সেবার টাকা পাননি। বর্তমানে সদ্য শেষ হওয়া কাজের অনেকেই টাকা পেলেও আমরা প্রায় ৬০-৭০ জন পাইনি।’

বাগপাড়া গ্রামের মৃত জমশেদ আলীর ছেলে কামরুজ্জামান বলেন, ‘টাকা না পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বারবার গেলেও কোনো সমাধান পাইনি। তাই বাধ্য হয়েই উপজেলাতে আসতে হয়েছে। এমনকী এখানে আসতেও মানা করেছেন চেয়ারম্যান।’

এ বিষয়ে নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির উদ্দিন বলেন, ‘এটি অফিসিয়াল বিষয়। আমরা উপজেলাতে তাদের হাজিরা পাঠিয়েছি। এরপরও কেন টাকা আসছে না, সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সারওয়ার পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘যারা কাজ করেননি, আমরা তাদের অনুপস্থিত দেখিয়েছি। তাই এ কর্মসূচিতে অনেকেরই টাকা আসেনি। তবে কাজ করেও টাকা আসেনি এমন কোনো অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোহান মাহমুদ/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]