মোংলায় মৎস্য ঘের থেকে উঠছে গ্যাস, চলছে রান্নাও
বাগেরহাটের মোংলায় মৎস্য ঘের থেকে গ্যাস বের হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) থেকে সেই গ্যাস থেকে শুরু হয়েছে রান্নার কাজও।
উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের পূর্বপাড়া ড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের (৩০) মৎস্য ঘেরে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়া পর ভিড় করছেন আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সোমবার তিন বিঘা জমিতে বালু ফেলার জন্য মৎস্য ঘেরে পাইপ বসানোর সময় হঠাৎ গ্যাস ওঠা শুরু হয়। ৫০ ফুট উচ্চতায় গ্যাস, বালু ও পানি উঠতে থাকে। তাৎক্ষণিকভাবে একটি ড্রাম দিয়ে পাইপ লাইন বসানো হয়। সেই লাইন থেকে আমরা এখন রান্নার কাজ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে এ মৎস্য ঘের থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের জন্য পাইপ বসালে তখনও গ্যাস ওঠে। এরপর বালু উত্তোলন কাজ বন্ধ করে দেই। এখন দেখি সেখান থেকে আবারও গ্যাস উঠছে।’

দেলোয়ারের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন মিম বলেন, ‘এ ঘেরে বালু তুলতে পাইপ লাগিয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে এখন গ্যাস উঠছে। বৃহস্পতিবার থেকে গ্যাস দিয়ে রান্না-বান্না করছি।’
দক্ষিণ চাঁদপাইয়ের উজ্জল মল্লিক বলেন, ‘আমরা শুনেছি এ এলাকার একটি মৎস্য ঘের থেকে গ্যাস উঠছে। পরিবার নিয়ে দেখতে এলাম। এসে সত্যিই দেখি গ্যাস দিয়ে তারা রান্না-বান্না করছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য উকিল উদ্দিন ইজারাদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘পাঁচ-ছয় বছর আগে এখান থেকে গ্যাস ওঠে। কিন্তু কেউ কখনো মূল্যায়ন করেনি। কী পরিমাণ গ্যাস আছে তা আমরা বলতে পারছি না। দ্রুত সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।’
তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ, বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির মোংলার আহবায়ক মো. নুর আলম শেখ বলেন, মাটির নিচের প্রাকৃতিক সম্পদের মালিক জনগণ। জনগণের গ্যাস সম্পদ উত্তোলন-সংরক্ষণ ও বিতরণ করে দেশের সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের কাজে লাগাতে হবে। বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার মিঠাখালী গ্রামের দেলোয়ারের চিংড়ি ঘের থেকে তীব্র বেগে গ্যাসের উদগীরণ হচ্ছে। পাইপ দিয়ে গ্যাসের চুলার সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে রান্নাবান্না করছেন। সরকারেরর কাছে গ্যাস অনুসন্ধানের দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর করণীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসজে/জেআইএম